ইক্ষু উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানসমূহ আলোচনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ইক্ষু উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানসমূহ আলোচনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

ইক্ষু উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানসমূহ আলোচনা কর

ইক্ষু উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানসমূহ আলোচনা কর। অথবা, আখ উৎপাদনে ভৌগোলিক উপাদানসমূহ উল্লেখ কর।

ভূমিকা: ইক্ষু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ফসল। ইক্ষু সরু এবং ২, ৪ হতে ৪, ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ইক্ষু গাছের কাণ্ড হতে যে রস বের হয় তা হতে গুড় বা চিনি তৈরি করা হয়। এর ছোবড়া ও পাতা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া ছোবড়া দ্বারা কাগজও তৈরি করা হয়। ইক্ষু উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থাসমূহঃ ইক্ষু চাষের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক উপাদানসমূহকে প্রধানত দু'টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- ১। প্রাকৃতিক উপাদান এবং ২। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান।

১। প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ: ইক্ষু চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো-

  • ভূপ্রকৃতিঃ উর্বর সমতল ভূমি ইক্ষু চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। তাই উঁচু ও ঢালু জমিতে ইক্ষুর চাষ ভালো হয়।
  • মৃত্তিকাঃ চুন ও পটাশ জাতীয় পদার্থ মিশ্রিত দো-আঁশ মাটি ইক্ষু চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। তাই নদী অববাহিকায় ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ইক্ষুর ফলন ভালো হয়।
  • জলবায়ুঃ ইক্ষু ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল। ইক্ষু উৎপাদনে প্রচুর উত্তাপ ও বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। (ক) উত্তাপ: সাধারণত ২৭০-৩৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা ইক্ষু চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। কারণ এ তাপমাত্রার ইক্ষুর ফলন ভাল হয়।
  • বৃষ্টিপাত: অল্প বৃষ্টিপাত অঞ্চলে ইক্ষু চাষের জন্য পানি সেচের প্রয়োজন হয়। তাই ইক্ষু চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। সাধারণত ১২৫-১৭৫ সেসি বৃষ্টিপাত অঞ্চলে ইক্ষুর ফলন ভালো হয়।

২। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান: ইক্ষু চাষের প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো নিম্নরূপঃ

  • মূলধনঃ ইক্ষু চাষের জন্য মূলধনের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি। কারণ ইক্ষু চাষের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন- চাষের বলদ বা যন্ত্রপাতি, বীজ, সার, কীটনাশক ওষুধ ক্রয়, চারা লাগানো, শ্রমিকের মজুরি প্রভৃতি বাবদ প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়।
  • শ্রমিকঃ ইক্ষু চাষের জন্য শ্রমিকের যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। ভূমি কর্ষণ হতে শুরু করে শস্য কর্তন পর্যন্ত সকল কাজে প্রচুর দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
  • বাজার: বাজারের উপর ইক্ষু চাষ বহুলাংশে নির্ভরশীল। সাধারণত অর্থকরী ফসল হিসেবে ইক্ষুর চাষ হয়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ইক্ষু ও এর দ্বারা তৈরি চিনির ব্যাপক চাহিদা না থাকলে ইক্ষু চাষ লাভজনক হয় না। তাই ইক্ষু চাষের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন।
  • পরিবহন ব্যবস্থাঃ সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থার উপরও ইক্ষু চাষ নির্ভরশীল। উৎপাদিত ভূমি হতে ইক্ষু দ্রুত চিনি কলে নিয়ে যাওয়া এবং উৎপাদিত চিনি দেশ-বিদেশের বাজারে প্রেরণের জন্য সুলভ পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন।
  • উন্নত বীজঃ ভালো ও অধিক ফসল পেতে হলে ইক্ষু চাষের জন্য উন্নত বীজের প্রয়োজন।
  • সার প্রয়োগঃ ইক্ষু গাছ অতি দ্রুত মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে ফেলে। তাই মাটির উর্বরতা শক্তি সংরক্ষণের জন্য ইক্ষু জমিতে প্রচুর জৈব ও নাইট্রোজেন সার প্রয়োজন।
  • কীটনাশক ওষুধঃ এক প্রকার পোকা ইক্ষু গাছের ডগা ও কাণ্ড ছিদ্র করে ইক্ষু গাছের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তাই কীটনাশক ওষুধ ছিটিয়ে পোকা দমন করতে হয়।

উপসংহারঃ ইক্ষু চাষের জন্য জমি হতে ভাল ফলন পেতে হলে উল্লিখিত প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ বিশেষ প্রয়োজন।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। ইক্ষু উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানসমূহ আলোচনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url