শ্রমের গতিশীলতা বলতে কী বুঝায়? শ্রমের গতিশীলতার প্রকারভেদ বর্ণনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে শ্রমের গতিশীলতা বলতে কী বুঝায়? শ্রমের গতিশীলতার প্রকারভেদ বর্ণনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

শ্রমের গতিশীলতা বলতে কী বুঝায়? শ্রমের গতিশীলতার প্রকারভেদ বর্ণনা কর

শ্রমের গতিশীলতা বলতে কী বুঝায়? শ্রমের গতিশীলতার প্রকারভেদ বর্ণনা কর। অথবা, শ্রমের গতিশীলতা বলতে কী বুঝায়?

শ্রমের গতিশীলতা: একজন শ্রমিক তার কাজ বা পেশা বদলাতে পারে, ভালো কাজের খোঁজে এক শিল্প বা স্থান থেকে অন্য শিল্প বা স্থানে যেতে পারে কিংবা একই জায়গায় কাজ করতে করতে পদোন্নতি পেতে পারে।

এভাবে শ্রমিকের এক পেশা ছেড়ে অন্য পেশা গ্রহণ, এক শিল্প পরিত্যাগ করে অন্য শিল্পে যোগদান, একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন কিংবা একই পেশার এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উন্নীত হওয়াকে শ্রমের গতিশীলতা বলে।

যেমন- কোনো লোক শিক্ষকতা ছেড়ে আইনজীবী হতে পারে। কোনো শ্রমিক কাপড়ের মিল ছেড়ে কাগজের মিলে চাকরি নিতে পারে। কেউ চাকরির অন্বেষায় দেশের এক অঞ্চল বা দেশ ছেড়ে অন্য অঞ্চল বা দেশে যেতে পারে।

আবার কেউ একই প্রতিষ্ঠানে কেরানি থেকে অফিসার হতে পারে। শ্রমের গতিশীলতা কর্মসংস্থান ও শ্রমিকের কর্মদক্ষতা বাড়ায়, মজুরির হার ও দামস্তরের মধ্যে পার্থক্য কমায় এবং দ্রুত ও সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হয়।

উৎপাদনের উপাদান বা উপকরণসমূহ: উপযোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করতে যেসব উপাদান বা উপকরণ ও সেবাকর্মের প্রয়োজন তাদেরকে উৎপাদনের উপাদান বলে। উৎপাদনের উপাদান ৪টি। যথাঃ ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। আধুনিক কালে উৎপাদনের ৫ম উপাদান হিসেবে 'সরকার'কে বিবেচনা করা হয়। অতএব, আধুনিক কালে উৎপাদনের উপাদান ৫টি। যথাঃ

১। ভূমি, ২। শ্রম, ৩। মূলধন, ৪। সংগঠন ও ৫। সরকার। নিম্নে উৎপাদনের এই উপাদানগুলো আলোচনা করা হলো:

  1. ভূমিঃ প্রকৃতি প্রদত্ত সকল সম্পদকে 'ভূমি' বলে। "ভূমি বলতে প্রকৃতি প্রদত্ত সেসব বস্তুকে বুঝায় যেগুলো মানুষের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণাধীনে এসে অর্থ উপার্জনে সহায়তা করে।" ভূমিকে উৎপাদনের আদি ও মৌলিক উপাদানও বলা হয়।
  2. শ্রমঃ উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত মানুষের কায়িক ও মানসিক কর্মপ্রচেষ্টাকে 'শ্রম' বলে। সহজ অর্থে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ব্যবহৃত দৈহিক ও মানসিক শক্তিকেই শ্রম বলে। অর্থ উপার্জন বা উপযোগ সৃষ্টির জন্য পরিশ্রমকে শ্রম বলে। যেমন-মুটে, কামার, কুমার, শিক্ষকের কাজ কায়িক ও মানসিক শ্রম।
  3. মূলধনঃ পূর্বে উৎপাদিত এবং পরবর্তীতে উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত সম্পদকে 'মূলধন' বলে। মূলধন মানুষের তৈরি সম্পদের সেই অংশ, যা অধিক উৎপাদনে সহায়তা করে। মি. বমওয়ার্ক বলেছেন, "মূলধন হলো উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান।" অর্থাৎ, মানুষের পরিশ্রমের ফলে উৎপাদিত যেসব সম্পদ সরাসরি ভোগে ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় উৎপাদন কাজে নিযুক্ত হয়, তাই মূলধন। এ অর্থে মূলধন বলতে যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, কাঁচামাল ইত্যাদিকে বুঝায়।
  4. সংগঠন: ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সংগ্রহ, সমন্বয় ও সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদনক্ষম করাকে 'সংগঠন' বলে। হ্যানির মতে, "কোনো নির্দিষ্ট এক বা একাধিক উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় সাধন প্রক্রিয়াকে সংগঠন বলে।" বর্তমান বিজ্ঞানের চরম, উৎকর্ষের যুগে সংগঠন বা ব্যবস্থাপনা খুবই জটিল ও ঝুঁকিবহুল হয়ে পড়েছে। তাই উৎপাদন বা ব্যবসায়ের সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে সংগঠন নৈপুণ্যের উপর।
  5. সরকার : জনস্বার্থে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক হিসেবে সরকার কোনো কোনো নির্ধারিত ক্ষেত্রে বা উৎপাদন কাজে পরামর্শ ও অনুমোদন দিয়ে উৎপাদনের উপাদান হিসেবে কাজ করে। অনুন্নত ও সমাজতান্ত্রিক দেশে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, যে-কোনো উৎপাদন ক্ষেত্রে এ সকল উৎপাদনের যৌথ প্রয়োগ বা সমন্বয় আবশ্যক। কেননা এই উপাদানসমূহের যৌথ বা পারস্পরিক সমন্বিত প্রয়োগ ছাড়া উৎপাদন অসম্ভব।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। শ্রমের গতিশীলতা বলতে কী বুঝায়? শ্রমের গতিশীলতার প্রকারভেদ বর্ণনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url