ভূমির বৈশিষ্ট্যসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ভূমির বৈশিষ্ট্যসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও নিয়ে আলোচনা করব।

ভূমির বৈশিষ্ট্যসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও অথবা, ভূমির বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ অথবা, ভূমি বলতে কী বুঝায়? ভূমির বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

ভূমির বৈশিষ্ট্যসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও অথবা, ভূমির বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ অথবা, ভূমি বলতে কী বুঝায়? ভূমির বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

উৎপাদনের উপাদানসমূহের মধ্যে বলা যায়, সবচেয়ে আদি বা মূল উপাদান হলো ভূমি। ভূমিকে কেন্দ্র করে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমিতে ভূমির উৎপাদন পাওয়া যায়। ভূমি বলতে জল-স্থল, উর্বরতা, খনিজ, বনজ, জলজ, আলো-বাতাস, পরিবেশ তথা উৎপাদন কাজে সহায়ক সবরকম প্রাকৃতিক সম্পদকে বুঝায়। মানুষের ভোগ বা উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত প্রকৃতি প্রদত্ত সকল সম্পদকে 'ভূমি' বলে।

অধ্যাপক মার্শাল-এর মতে, "ভূমি বলতে সেসব শক্তি ও সম্পদকে বুঝায় যা প্রকৃতি জলে-স্থলে, আকাশে-বাতাসে ও উত্তাপের মাধ্যমে মানুষকে মুক্ত হস্তে দান করছে।" অর্থনীতিতে ভূমি বলতে, "শুধু পৃথিবীর উপরিভাগ বা মাটিকে বুঝায় না, বরং ভূপৃষ্ঠ, জল-স্থল, উর্বরতা, খনিজ, বনজ, জলজ, আলো-বাতাস, পরিবেশ' তথা উৎপাদন কাজে সহায়ক প্রাকৃতিক সম্পদকে বুঝায়।" ভূমি বলতে প্রকৃতি প্রদত্ত সেসব বস্তুকে বুঝায় যেগুলো মানুষের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে এসে অর্থ উপার্জনে সহায়তা করে।

ভূমির বৈশিষ্ট্য: ভূমির কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হলো:

  1. ভূমি প্রকৃতির দানঃ ভূমি প্রকৃতি প্রদত্ত। মানুষ ভূমি সৃষ্টি করতে পারে না। ভূমি অনায়াসলভ্য, যার উৎপাদন খরচ নেই। মাটি, পানি, খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি প্রকৃতির ভূমি।
  2. ভূমির যোগান সীমাবদ্ধ : সীমাবদ্ধ যোগানহেতু এর পরিমাণ মানুষ বাড়াতে পারে না। রূপ, স্থান, সময় পরিবর্তন করে ভূমির উপযোগিতা সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু ভূমির পরিমাণ বাড়ানো যায় না।
  3. সকল ভূমি সমজাতীয় নয় : গুণগত, অবস্থানগতভাবে ভূমি সমজাতীয় নয়। উৎপাদনশীলতা, মূল্য ইত্যাদি উপাদানের কারণে ভূমির তারতম্য দেখা যায়। যেমন- রিকোর্ডো খাজনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জমিকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
  4. উর্বরতা শক্তির পার্থক্য : উর্বরতা শক্তির দিক দিয়ে সকল ভূমি সমান নয়। কোনো ভূমি বেশি উর্বর আর কোনোটি কম উর্বর। এক অঞ্চলে এক ধরনের অন্য অঞ্চলে অন্য ধরনের প্রাকৃতিক অবস্থা বিদ্যমান। এরূপ উর্বরতার পার্থক্যের কারণে ভূমির দামেরও পার্থক্য হয়ে থাকে।
  5. অবস্থানগত পার্থক্যঃ ভূমির অবস্থানগত পার্থক্য আছে। সুন্দর যোগাযোগ, ব্যবহার উপযোগী পরিবেশ, সব মিলিয়ে ভূমির গুরুত্ব কম-বেশি হতে পারে। অনুকূল পরিবেশের ভূমির দাম প্রতিকূল পরিবেশের তুলনায় বেশি।
  6. ভূমি স্থানান্তরযোগ্য নয়: প্রকৃতি পূর্বেই ভূমির অবস্থান ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ভূমি বস্তুগতভাবে স্থানান্তর করা যায় না। এর মালিকানা পরিবর্তন করা যায়। ভূমির ভৌগোলিক গতিশীলতা নেই।
  7. আদিম ও অক্ষয় ক্ষমতা: ডেবিড রিকার্ডো-এর মতে, ভূমির 'আদিম' ও 'অক্ষয়' ক্ষমতা রয়েছে। ভূমির এই শক্তি সহজে এবং স্বল্প সময়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
  8. ভূমি চিরস্থায়ী: ভূমি কখনও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। প্রকৃতি যতদিন থাকবে, প্রকৃতির দান হিসেবে ভূমিও ততদিন থাকবে। 
  9. ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন বিধি প্রযোজ্য: নির্দিষ্ট ভূমিতে শ্রম ও মূলধন ক্রমবর্ধমান হারে ব্যবহার করলে ভূমির উৎপাদনশীলতা ক্রমে ক্রমে কমতে থাকে। তাই ভূমির ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন বিধিটি প্রযোজ্য।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ভূমির কতকগুলো আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ভূমি কখনও ধ্বংস হয় না। যতদিন পৃথিবীতে প্রকৃতি থাকবে ঠিক ততদিন ভূমি থাকবে। তাই বলা যায়, ভূমি অবিনশ্বর এবং প্রকৃতির দান।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। ভূমির বৈশিষ্ট্যসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url