পরোক্ষ কর কী? পরোক্ষ করের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পরোক্ষ কর কী? পরোক্ষ করের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

পরোক্ষ কর কী? পরোক্ষ করের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর।

পরোক্ষ কর কী? পরোক্ষ করের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর। পরোক্ষ কর যে করের ক্ষেত্রে করঘাত এক ব্যক্তির উপর এবং করপাত অন্য ব্যক্তির উপর ন্যস্ত করা হয় তা-ই পরোক্ষ কর। এ করের কিছু সুবিধা আছে। পরোক্ষ করের সুবিধাঃ নিম্নে এ করের সুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

  1. সর্বজনীন: সাধারণত দ্রব্য ও সেবার উপর পরোক্ষ কর আরোপ করা হয়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলে ঐগুলো ভোগ করে বলে সকল শ্রেণির ভোক্তা কম-বেশি কর দিতে বাধ্য হয়। ফলে এ কর ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যয়ভার বহনে সকলকে সম্পৃক্ত করা যায়। দরিদ্র লোকেরা সবসময়ই প্রত্যক্ষ কর প্রদান থেকে অব্যাহতি পায় বলে কেবলমাত্র পরোক্ষ করের মাধ্যমেই তাদের কাছে পৌঁছানো যায়।
  2. জনপ্রিয়তা: সাধারণত দ্রব্য ও সেবার বর্ধিত দামের মাধ্যমে পরোক্ষ কর আদায় করা হয় বলে করদাতারা করভার অনুভব করতে পারে না। যেমন- তামাকের উপর আরোপিত শুল্কভার ধূমপায়ীরা বুঝতেই পারে না যদিও প্রতিটি সিগারেট শলাকার দামের মধ্যে তা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই এ কর বেশি জনপ্রিয়।
  3. ফাঁকির অসুবিধাঃ পরোক্ষ কর দ্রব্য সেবার দামের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ করারোপিত প্রতিটি দ্রব্যের দামের ভিতর কর অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করলেই এ কর প্রদান করতে হয় বলে তা ফাঁকি দেয়া যায় না।
  4. সুবিধাজনক: পরোক্ষ কর করদাতার অজ্ঞাতসারে অল্প অল্প করে আদায় করা হয়। করদাতা বুঝতেই পারে না যে সে কর প্রদান করছে। এ কর প্রদান করা তাই সুবিধাজনক। এ কর ব্যবস্থায় সরকারের পক্ষে তাই বেশি করে কর রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব।
  5. স্থিতিস্থাপকঃ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে পরোক্ষ কর বেশ স্থিতিস্থাপক। নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির উপর এ করের হার সামান্য বাড়ালেই বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করা যায়। বস্তুত দ্রব্য ও সেবার উৎপাদন বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে এ কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব বাড়ে।
  6. সামাজিক কল্যাণঃ পরোক্ষ কর ব্যবস্থায় সমাজের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্যগুলোর উপর উচ্চ হারে কর ধার্য করে সেগুলোর উৎপাদন ও ভোগ নিরুৎসাহিত করা যায়। এভাবে একদিকে উৎপাদনের উপকরণগুলো বেশি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি উৎপাদনের কাজে লাগানো যায় এবং অন্যদিকে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বেশি দরকারি দ্রব্যাদির দিকে প্রবাহিত করা সম্ভব হয়। এর ফলে সামাজিক কল্যাণ বাড়ে।
  7. উৎপাদনশীলঃ পরোক্ষ কর যথেষ্ট উৎপাদনশীল। যেসব দ্রব্যের চাহিদা অস্থিতিস্থাপক সেগুলোর উপর পরোক্ষ কর আরোপ করলে চাহিদা কমে না। ফলে অস্থিতিস্থাপক চাহিদাসম্পন্ন দ্রব্যের উপর এ কর আরোপ করে অনেক বেশি কর-রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
  8. সমতা আনয়নঃ এ কর সমতার নীতির সঙ্গে সমাঞ্জস্যপূর্ণ। এ কর ধনীদের ব্যবহার্য বিলাসজাত দ্রব্যের উপর বেশি হারে এবং গরিবদের ব্যবহার্য দ্রব্যের উপর কম হারে আরোপ করা সম্ভব। এর ফলে সমাজে আয় বৈষম্য কিছুটা হলেও কমে আসে।
  9. অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরোক্ষ করের সাহায্যে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এছাড়া আমদানি ও রপ্তানির উপর কর ধার্য করে। দেশের প্রয়োজনে বৈদেশিক বাণিজ্যকে কাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালিত করা যায়। এ করের মাধ্যমে সংরক্ষণের নীতি অনুসরণ করে দেশে শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়ন ঘটনো সম্ভব।

পরোক্ষ করের অসুবিধাঃ পরোক্ষ করের কতকগুলো অসুবিধা আছে। নিম্নে এগুলো আলোচনা করা হলোঃ
  1. অনিশ্চয়তাঃ পরোক্ষ কর হলো একটি অনিশ্চিত কর। পরোক্ষ কর হতে কী পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া যাবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলে সরকারের বাজেট প্রণয়নে যথেষ্ট অসুবিধা হয়।
  2. অসমতাঃ পরোক্ষ কর ধনী-গরিব সকলকে এক হারে প্রদান করতে হয়। ফলে ধনী অপেক্ষা গরিব লোকদের উপর করভার, বেশি পড়ে এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট বাড়ে। কাজেই এ কর অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
  3. নাগরিক সচেতনতার অভাবঃ পরোক্ষ কর দ্রব্যের দামের সঙ্গে প্রদান করা হয়। ফলে করদাতারা করের বোঝা অনুভব করতে পারে না। সুতরাং করের অর্থ সরকার কীভাবে ব্যয় করে সে সম্পর্কে করদাতারা জানতে সচেষ্ট হয় না। তাই পরোক্ষ কর নাগরিকদের মধ্যে চেতনাবোধ জাগ্রত করে না।
  4. ব্যয়বহুল করঃ পরোক্ষ কর আদায়ের জন্য বহুসংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করতে হয়। ফলে কর সংগ্রহের জন্য ব্যয়ের পরিমাণ খুবই বেশি হয়। তাই পরোক্ষ করকে ব্যয়বহুল কর বলা হয়।
  5. বাণিজ্যের গতি ব্যাহত: পরোক্ষ কর ধার্যের ফলে দ্রব্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দ্রব্যসাগ্রীর চাহিদা হ্রাস পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়।
  6. রপ্তানি হ্রাস: পরোক্ষ কর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে। ফলে রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
  7. বৈষম্য বৃদ্ধিঃ পরোক্ষ করের ভার ধনী অপেক্ষা গরিবদের বেশি বহন করতে হয়। কাজেই এ কর ধনী ও গরিবদের মধে আয় বৈষম্য বৃদ্ধি করে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর উভয়ের সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। তবে ন্যায়বিচার ও সমতার দৃষ্টিকোণ হতে বিচার করলে পরোক্ষ কর অপেক্ষা প্রত্যক্ষ কর অধিকতর গ্রহণযোগ্য। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ প্লাডস্টোন যথার্থ বলেছেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের সংমিশ্রণেই দেশে উত্তম কর ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। পরোক্ষ কর কী? পরোক্ষ করের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url