মোট সুদ ও নিট সুদের মধ্যে পার্থক্য কী? সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হয়?

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে মোট সুদ ও নিট সুদের মধ্যে পার্থক্য কী? সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হয়? নিয়ে আলোচনা করব।

মোট সুদ ও নিট সুদের মধ্যে পার্থক্য কী? সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হয়?

ভূমিকা: মূলধন ব্যবহারের জন্য ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে যে অর্থ প্রদান করে তাকে মোট সুদ বলে। মোট সুদের মধ্যে নিট সুদ, ঋণ দানের ঝুঁকি, হিসাবনিকাশ রাখা ও ব্যবস্থাপনা খরচ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে শুধুমাত্র মূলধনের উৎপাদনের ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য তার মালিককে যে অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে নিট সুদ বলে।

মোট সুদ হতে ঋণের ঝুঁকি, ব্যবস্থাপনা, ঋণ আদায়ের খরচ প্রভৃতি বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তাই নিট সুদ। মোট সুদ ও নিট সুদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ দু'য়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

মোট সুদ ও নিট সুদের মধ্যে পার্থক্য:

  1. মূলধনের উৎপাদন ক্ষমতা ও আনুষঙ্গিক কারণে ঋণগ্রহীতা মূলধনের মালিককে যে অর্থ প্রদান করে থাকে, তাকে মোট সুদ বলা হয়। অপরপক্ষে, নিট সুদ শুধুমাত্র মূলধনের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়।
  2. মোট সুদের মধ্যে নিট সুদ ঋণের ঝক্কি ঝামেলা, ব্যবস্থাপনা খরচ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু নিট সুদের মধ্যে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
  3. নিট সুদ মোট সুদের অংশ মাত্র। তাই মোট সুদের পরিমাণ সর্বদা বেশি। কিন্তু নিট সুদ মোট সুদের তুলনায় কম হয়ে থাকে।
  4. মোট সুদের হার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, নিট সুদের হার সর্বদা প্রায় সমান হয়।

সুদের হার যেভাবে নির্ধারিত হয়ঃ সুদের হার নির্ধারণ সম্পর্কে নানা তত্ত্ব আছে। নিম্নে একটি উল্লেখযোগ্য তত্ত্ব আলোচনা করা হলোঃ চাহিদা ও যোগান তত্ত্বঃ সুদ হলো মূলধন ব্যবহারের জন্য দেয় দাম। কাজেই সাধারণ কোনো দ্রব্যের মতো মূলধনের দাম বা সুদের হারও এর চাহিদা ও যোগান দ্বারা নির্ধারিত হয়। মূলধনের চাহিদ। ও যোগন দাম যে বিন্দুতে ভারসাম্যে পৌঁছে সেই বিন্দুতে সুদের হার নির্ধারিত হয়।।

মূলধনের চাহিদা; মূলধন উৎপাদনশীল। তাই উৎপাদনকারী যখন কোনোকিছু উৎপাদন করতে চায়, তখনই মূলধনের চাহিদা সৃষ্টি হয়। উৎপাদনকারী উৎপাদন তবে কাজে কী পরিমাণ মূলধন নিয়োগ করবে তা মূলধনের প্রান্তিক উৎপাদন ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। মূলধনের প্রান্তিক উৎপাদন ক্ষমতা যতক্ষণ পর্যন্ত দেয় সুদের হার অপেক্ষা বেশি হয় ততক্ষণ পর্যন্ত উৎপাদনকারী মূলধন নিয়োগ করতে থাকে।

তবে ক্রমাগত অধিক পরিমাণে মূলধন নিয়োগের ফলে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হওয়ায় মূলধনের প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমশ কমতে থাকে। ফলে উৎপাদনের কোনো এক স্তরে মূলধনের প্রান্তিক উৎপাদন ক্ষমতা ও সুদের হার সমান হয়।

এ স্তরেই উৎপাদক অতিরিক্ত মূলধন নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। কারণ এ স্তরের পর অতিরিক্ত মূলধন নিয়োগ করলে উৎপাদনকারীর কোনো লাভ হয় না। এজন্য সুদের হার বাড়লে মূলধনের চাহিদা রেখা (মূলধন আয় উৎপন্ন রেখা) ডানদিকে নিম্নগামী হয়ে থাকে।

মূলধনের যোগান: মূলধনের যোগান সঞ্চয়ের উপর নির্ভর করে। সমাজের সঞ্চয় আবার মানুষের সঞ্চয় ক্ষমতা, সঞ্চয়ের ইচ্ছা, বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা, সুদের হার, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। তবে এসব বিষয়ের মধ্যে সুদের হার সঞ্চয়ের পরিমাণকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।

সুদের হার বাড়লে মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ে। ফলে মূলধনের যোগান বৃদ্ধি পায়। আবার সুদের হার কম হলে মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যায়। ফলে মূলধনের যোগান হ্রাস পায়। সুতরাং সুদের হার ও মূলধনের যোগানের মধ্যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। তাই মূলধনের যোগান রেখা বামদিক হতে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়ে থাকে।

সুদের ভারসাম্যে হারঃ উপরের আলোচনা হতে দেখা যায় যে, মূলধনের চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক প্রভাবের সুদের ভারসাম্য হার নির্ধারিত হয়। এ ভারসাম্য হারে মূলধনের চাহিদা ও যোগান পরস্পর সমান হয়।

মূলধনের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য বিন্দুতে সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হয় তা নিম্নের রেখাচিত্রের সাহায্যে দেখানো হলোঃ

চিত্রে OX অক্ষে মূলধনের চাহিদা ও যোগান এবং OY অক্ষে সুদের হার দেখানো হয়েছে। DD' হলো মূলধনের চাহিদা রেখা এবং SS' মূলধনের যোগান রেখা। এ দু'টো রেখা পরস্পরকে P বিন্দুতে ছেদ করেছে।

সুতরাং P বিন্দু হলো সুদের ভারসাম্য হার। এ বিন্দুতে মূলধনের চাহিদা ও যোগানের পরিমাণ OM এবং সুদের হার ORI সুতরাং P বিন্দুতে সুদের ভারসাম্য হার নির্ধারিত হয়। সুদের হার ভারসাম্য সুদ OR অপেক্ষা কম বা বেশি হতে পারে না।

উপসংহার: পরিশেষে উপরিউক্ত এসব আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মূলধন ব্যবহারের জন্য ঋণদাতাকে যে পারিতোষিক দেয়া হয়, তাই সুদ। মোট সুদের মধ্যে নিট সুদ ঋণদানের ঝুঁকি, হিসাবনিকাশ রাখা ও ব্যবস্থাপনা খরচ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। মোট সুদ ও নিট সুদের মধ্যে পার্থক্য কী? সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হয়? এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url