মজুরির সংজ্ঞা দাও। আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে মজুরির সংজ্ঞা দাও। আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর নিয়ে আলোচনা করব।

মজুরির সংজ্ঞা দাও। আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর। অথবা, মজুরি কাকে বলে? আর্থিক মজুরি ও সামগ্রিক মঞ্জুরির মধ্যে পার্থক্য দাও।

মজুরির সংজ্ঞা দাও। আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।

মজুরি: সাধারণ অর্থে শ্রমিকের পারিশ্রমিককে মজুরি বলা হয়। অর্থাৎ উৎপাদন কাজে অংশগ্রহণের জন্য শ্রমিক যে পারিশ্রমিক পায়, তা-ই মজুরি। কিন্তু অর্থনীতিতে মজুরি শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। শ্রমিক তার শারীরিক ও মানসিক প্রমের বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক লাভ করে, তাকে অর্থনীতিতে মজুরি বলা হয়। যেমন- অধ্যাপক, ডাক্তার ও শ্রমিক নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থেকে পারিশ্রমিক লাভ করেন। এরূপ পারিশ্রমিককেই মজুরি বলা হয়। নিম্নে মজুরির একটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলোঃ

অধ্যাপক বেনহাম-এর মতে, "চুক্তির অধীনে কাজ করার জন্য নিয়োগকর্তা শ্রমিককে যে অর্থ প্রদান করে, তাকে মজুরি বলা হয়।" সাধারণভাবে মনে করা হয় যে, শুধু অন্যের অধীন কাজ করে মজুরি পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করেও মজুরি লাভ করা যায়।

কোনো শ্রমিক নিজের জমিতে বা কারখানায় কাজ করে মজুরি লাভ করতে পারে। এরূপ ক্ষেত্রে শ্রমিক অন্যের জমিতে বা কারখানায় কাজ করলে যে আয় পেত তাই হবে তার মজুরি। সুতরাং শ্রমিক স্বাধীনভাবে বা অন্যের অধীনে কাজ করে মজুরি লাভ করতে পারে।

আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য: আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এ পার্থক্যগুলো নিম্নরূপঃ

  1. কোনো শ্রমিক তার শ্রমের বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ লাভ করে, তাকে 'আর্থিক মজুরি' বলা হয়। পক্ষান্তরে, কোনো শ্রমিক তার আর্থিক মজুরি দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারে এবং আনুষঙ্গিক যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে তার সমষ্টিকে প্রকৃত মজুরি বলা হয়।
  2. আর্থিক মজুরি নির্ণয়ের মাপকাঠি হলো অর্থ। পক্ষান্তরে, আর্থিক মজুরি দিয়ে ক্রীত দ্রব্যসামগ্রী এবং প্রাপ্ত অন্যান্য সুযোগ- সুবিধার ভিত্তিতে প্রকৃত মজুরি পরিমাপ করা হয়।
  3. আর্থিক মজুরি দ্বারা কোনো শ্রমিকের অর্থনৈতিক অবস্থা সঠিকভাবে বিচার করা যায় না। প্রকৃত মজুরি দ্বারাই কোনো শ্রমিকের অর্থনৈতিক অবস্থা বিচার করা যায়। অর্থনীতিবিদ এডাম স্মিথ যথার্থই বলেন, "কোনো শ্রমিক ধনী বা দরিদ্র, কম বা বেশি মজুরি পায় তা আর্থিক মজুরির অনুপাতে নয়; প্রকৃত মজুরির অনুপাতেই বিচার করা হয়।"
  4. কোনো শ্রমিকের নিকট আর্থিক মজুরির থেকে প্রকৃত মজুরি অধিকতর আকর্ষণীয়। শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রভৃতি তার আর্থিক মজুরির উপর নির্ভরশীল নয় বরং তা নির্ভর করে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরির উপরই।
  5. আর্থিক মজুরির ক্ষেত্রে কেবলমাত্র নগদ অর্থই বিবেচনায় আনা হয়। কিন্তু প্রকৃত মজুরির ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ছাড়াও দামন্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। কোনো শ্রমিকের আর্থিক মজুরি কিছুটা বাড়লেও দামস্তর যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি পায় না। দামস্তর বিষয়টি বিবেচনায় আনায় প্রকৃত মজুরির ধারণাটি অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বিবেচিত হয়।
  6. আর্থিক মজুরির তুলনায় প্রকৃত মজুরির ধারণাটি অপেক্ষাকৃত ব্যাপক ও বিস্তৃত। কেননা আর্থিক মজুরি হলো প্রাপ্ত নগদ অর্থ। কিন্তু প্রকৃত মজুরি হলো নগদ অর্থ ছাড়াও শ্রমিকের প্রাপ্ত অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। এদিক দিয়ে বিবেচনা করলে আর্থিক মজুরির তুলনায় প্রকৃত মজুরির ধারণাটি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত।
পরিশেষে বলা যায় যে, আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে অনেক সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। শ্রমিকের মজুরি বিবেচনার ক্ষেত্রে প্রকৃত মজুরির ধারণাটিই অধিকতর গুরুত্বের দাবিদার।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। মজুরির সংজ্ঞা দাও। আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url