চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কাকে বলে? চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কত প্রকার ও কী কী আলোচনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কাকে বলে? চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কত প্রকার ও কী কী আলোচনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কাকে বলে? চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কত প্রকার ও কী কী আলোচনা কর।

চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা: চাহিদা বিধি অনুযায়ী দ্রব্যের দাম পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু সবসময় ও সব দ্রব্যের ক্ষেত্রে চাহিদার পরিবর্তন একই হারে হয় না। একটি দ্রব্যের দাম পরিবর্তনের ফলে তার চাহিদা যে হারে পরিবর্তিত হয়, তাকে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা বা সুনির্দিষ্টভাবে চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা বলে।

দামের পরিবর্তন অপেক্ষা চাহিদার পরিবর্তন কখনও বেশি, কখনও কম, আবার কখনও বা অসীম ও শূন্য হতে পারে। (i) অধ্যাপক মার্শাল-এর মতে, "দামের পরিবর্তনের ফলে তার চাহিদা যে দ্রুত বা ধীরভাবে পরিবর্তিত হয় তাকে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা বলে।

(ii) অর্থনীতিবিদ লিপ্সি বলেন, "দ্রব্যের দামের পরিবর্তনের ফলে তার চাহিদা যে পরিমাণে সাড়া দেয় তাকে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা বলে। চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার প্রকারভেদ: কোনো দ্রব্যের দামের পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিবর্তন হয়।

কিন্তু সকল দ্রব্যের ক্ষেত্রে চাহিদার পরিবর্তন সমান হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য এবং কোনো ক্ষেত্রে মোটেই পরিবর্তন হয় না। চাহিদা এবং দামের পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো নিম্নরূপ-

  1. একক স্থিতিস্থাপকঃ দাম ও চাহিদার পরিবর্তনের হার যদি সমান হয়, তাকে 'একক স্থিতিস্থাপকতা' বলে। দ্রব্যের দাম ১০% বাড়লে বা কমলে চাহিদাও যদি ১০% কমে বা বাড়ে, তাকে একক স্থিতিস্থাপকতা বলে।
  2. একক অপেক্ষা বেশি স্থিতিস্থাপকঃ দামের পরিবর্তনের হার অপেক্ষা যদি চাহিদার হারে বেশি পরিবর্তন ঘটে, তবে তাকে একক অপেক্ষা বেশি স্থিতিস্থাপক বলে। দ্রব্যের দাম ১০% পরিবর্তন হলে চাহিদা যদি ১০% এর বেশি পরিবর্তন হয়, তবে তাকে 'একক অপেক্ষা বেশি স্থিতিস্থাপকতা' বলে। এই হচ্ছে 'স্থিতিস্থাপক চাহিদা'।
  3. এককের চেয়ে কম স্থিতিস্থাপক: দামের পরিবর্তনের চেয়ে চাহিদার পরিবর্তনের হার যদি কম হয়, তবে তাকে এককের চেয়ে কম স্থিতিস্থাপক চাহিদা বলে। দাম ১০% পরিবর্তন, হলে যদি চাহিদা ১০% এর কম পরিবর্তন হয়, তাকে এককের চেয়ে কম বা 'অস্থিতিস্থাপক চাহিদা' বলে।
  4. সম্পূর্ণ বা অসীম স্থিতিস্থাপক: দামের খুবই সামান্য পরিবর্তন বা কোনো পরিবর্তন ছাড়া যদি চাহিদার পরিবর্তন হয়, তবে তাকে সম্পূর্ণ বা অসীম স্থিতিস্থাপক বলে। এক্ষত্রে দামের সামান্যতম বৃদ্ধির ফলে চাহিদা শূন্য হবে।
  5. সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক বা শূন্য স্থিতিস্থাপক: দামের ব্যাপক পরিবর্তন সত্ত্বেও চাহিদার কোনো পরিবর্তন না হলে তাকে সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক বা শূন্য স্থিতিস্থাপক বলে। এক্ষেত্রে দামের হ্রাস-বৃদ্ধি চাহিদার উপর কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না। যেমন- দামের পরিবর্তন শতকরা ১০% হওয়া সত্ত্বেও চাহিদার কোনো পরিবর্তন হবে না।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার পশ্চাতে প্রয়োজনীয় অর্থ এবং অর্থ ব্যয় করার প্রবল ইচ্ছা থাকলেই তাকে অর্থনীতিতে চাহিদা বলে। আর দাম পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিমাণে যে পরিবর্তন ঘটে তার হারকে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা বলে।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কাকে বলে? চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কত প্রকার ও কী কী আলোচনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url