পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করব।

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক (Relationship of Civics & Good Governance with Geography) পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। তাছাড়া পৌরনীতির আলোচ্য বিষয় রাষ্ট্র মূলত ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান। আর ভূগোল রাষ্ট্রের ভূখণ্ড, আবহাওয়া, ভূপ্রকৃতি, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। তাই পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ভূগোলের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

ক. পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের আচার-আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। অপরদিকে, মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে ভূগোল আলোচনা করে।

ভূখণ্ড রাষ্ট্রের একটি অন্যতম উপাদান। প্রতিটি রাষ্ট্রের থাকে একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা সীমানা। জমির উর্বরতা ও খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি। নদ-নদী, সমুদ্র, পাহাড় প্রভৃতির মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের শারীরিক গঠন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলি অনেকাংশেই নির্ভর করে ভূ-প্রকৃতির ওপর।

গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle), ফরাসি দার্শনিক অ্যা বোনা (Jean Bodin) এবং জাঁ জাঁক বুশো (Jean Jacques Rousseau) বলেছেন যে, 'রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া ও জলবায়ু মানুষের রাজনৈতিক জীবন ও সরকার ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।

কাজেই পৌরনীতি ও সুশাসনের যেকোনো অধ্যয়নকে ভূগোলের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। এছাড়াও মন্টেস্টু (Montesquieu) এবং ইবনে খালদুন (Iba Khaldun) প্রমুখ মনীষী মানুষের বিভিন্ন গুণাবলির ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবকে স্বীকার করেছেন।

খ.  ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বহুলাংশে নির্ভরশীল। এছাড়া রাষ্ট্রের রাজধানী কোথায় অবস্থিত হলে ভালো হয়, প্রধান প্রধান শিল্পকেন্দ্র, বন্দর, রেল, সেতু প্রভৃতির অবস্থান কোন স্থানে হলে উত্তম হবে এসব বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থানের আলোকে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

এ কারণে যেকোনো সরকার ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক (Geo-political) এবং ভূ-অর্থনৈতিক (Goo-cconomic) প্রভাবের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনতে হয়। রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। পৌরনীতি ও সুশাসনের পূর্ণাঙ্গতার জন্য ভূগোলের পাঠ একান্ত অপরিহার্য।

গ. ভূগোলের দুটো অংশ রয়েছে- একটি সামাজিক এবং অপরটি প্রাকৃতিক। সামাজিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি যেমন অর্থনৈতিক সম্পদ, নগরীর উৎপত্তি, রাষ্ট্রের আয়তন, কৃষিজ ও খনিজ সম্পদ প্রভৃতি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়। কাজেই দেখা যায়, সামাজিক ভূগোল পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আর প্রাকৃতিক ভূগোল পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে পরোক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত।

ঘ. বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্র আরেকটি রাষ্ট্রের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। কোনো রাষ্ট্র একা একা চলতে পারে না। তাই একটি রাষ্ট্রকে অন্য একটি রাষ্ট্রের সাথে পররাষ্ট্র সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। আর এই পররাষ্ট সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই রাজনীতির সাথে, ভূগোলের নির্ভরশীলতার সম্পর্ক রয়েছে।

ঙ. পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ভূগোলের বিষয়বস্তুগত এবং অধ্যয়ন পদ্ধতির দিক থেকে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক, রাষ্ট্র সরকার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে, ভূগোল ভূপ্রকৃতি এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসনের অধ্যয়ন পদ্ধতি ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক। কিন্তু ভূগোলের অধ্যয়ন পদ্ধতি ঐতিহাসিক ও গাণিতিক।

উত্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ভূগোল পরস্পর ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ। একটির যথাযথ পাঠ অপরটিকে সমৃদ্ধ করে তোলে।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url