পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করব।

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক (Relationship of Civics & Good Governance with Ethics) পৌরনীতি ও সুশাসন উত্তম নাগরিকরার কথা বলে। উত্তম নাগরিকতা সততা, ন্যায় ও নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা নীতিশাস্ত্র নীতি ও ন্যায়ের ভিত্তিতে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। অর্থাৎ, লক্ষ্যের দিক থেকে উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক ইতিবাচক ও সুদুরপ্রসারী।

ক. পৌরনীতি ও সুশাসনের সথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ: পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যামান। পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্তের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো নাগরিক। নীতিশাস্ত্রের শিক্ষা নাগরিক জীবন ও আচরণ, নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকতার জীবনবোধকে ন্যায়নীতির উচ্চ মানে উজ্জীবিত করে।

প্রাচীনকালে নৈতিক ধারণার সামে পৌরনীতি ও সুশাসনের ধারণার পার্থক্য ছিল না। প্লেটো তার "টি রিপাবদিত' প্রশ্নে ব্যাস্তবর্মকে জান সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নৈতিক পুণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

খ. পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের উদ্দেশ্যগত সাদৃশ্য: নীতিশাস্ত্র মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে সাযয্য করে। নীতিগত এবং আচরণগত নিয়মাবলি নির্ধারণ করাই এর লক্ষ্য। মানুষের ন্যায়-নীতির ভিত্তিমূল হরেই রাষ্ট্রন কাঠামো গড়ে উঠেছে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতার বিজ্ঞান হিসেবে মানুষকে সুনাগরিক হতে শিক্ষা দেয়।

আবার নীতিশাস্ত্র নৈতিক আচার-ব্যবহার ও ক্রিয়াকলাপ বিশ্লেষণ করে। এটি ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের মাধ্যমে মানুষকে সৎ হতে এবং জনকল্যাণ সাধন করতে অনুপ্রাণিত করে। এদিক হতে বিচার করলে দেখা যায় যে, উভয় অধ্যায়ন শাস্ত্রের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন।

গ. কল্যাণমুখী রাউ (Welfare State) ও নীতিশাস্ত্র (Chius): বর্তমান রক্ত হলো কল্যাণকামী রাষ্ট্র (Welfare Sase) কল্যাণকামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ লক্ষ্য থাকে নাগরিক জীবনের সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধন। রাক্তীয় কল্যাণ ভোগ করার জন্য নাগরিককে সুনাগরিক হতে হয়। সুনাগরিক হওয়ার জন্য নীতিশাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন অপরিমার্ষ। বর্তমান কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও নীতিশাস্ত্র একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য চেস্টা করে।

ঘ. পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের পরস্পর নির্ভরশীলতা: উভয় শাস্ত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক আইভর ব্রাটন বলেছেন, নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন এবং রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া নৈতিক মতবাদ অসম্পূর্ণ (Ethical theory is incomplete without political theory political theory in idle without ethical theory)

ঙ. পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের বিষয়বস্তুগত মিল: পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের মধ্যে। বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে। পৌরনীতি ও সুশাসন মানুষের আচরণ, কার্যাবলি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। আর নীতিশাস্ত্র মানুষের আচরণ ও মূল্যবোধের মানদণ্ড বিচার করে।

ছ. পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের মৌলিক পার্থক্য: বিষয়বস্তুর দিক হতে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পৌরনীতি ও সুশাসন কেবল মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু নীতিশাস্ত্র মানুষের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ আচার-আচরণ দুই-ই নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে. পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি সীমিত কিন্তু নীতিশাস্ত্রের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url