পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার সম্পর্ক

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করব।

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার সম্পর্ক

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার সম্পর্ক (Relationship of Civies & Good Governance with Population & Development Studies) জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চা (Population & Development Studies) বিষয়টি সামাজিক বিজ্ঞানের এক নতুন শাখা। পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনসংখ্যা কীরূপ ভূমিকা পালন করে বা বাধার সৃষ্টি করে সে সম্পর্কিত আলোচনা মূলত স্থান পায় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চা বিষয়ে। পৌরনীতি ও সুশাসন সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম একটি শাখা বিধায় এ দুটি অধ্যয়ন শাস্ত্রের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়।

ক. পৌরনীতি ও সুশাসন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য দারিদ্রা ও ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্যের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করে। এজন্য এটি টেকসই উন্নয়ন কৌশল, দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন, তাদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। নাগরিকদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসংখ্যাস্ফীতি রোধ এবং জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার ওপরও জোর দেয়। অপরদিকে, জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চাও এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে এবং এ বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে।

খ. পৌরনীতি ও সুশাসন এবং জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চা উভয়েরই মূল আলোচ্য বিষয় হলো নাগরিক। তবে পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, সুনাগরিকতা, নাগরিকতার ধারণা, প্রকারভেদ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চা নাগরিকদের জনসংখ্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এবং জনসংখ্যা তত্ত্ব, জনসংখ্যার কাঠামো, জনসংখ্যার বৃদ্ধি, জনসংখ্যার বণ্টন, জনসংখ্যার স্থানান্তর, আন্তর্জাতিক অভিবাসন এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার ভূমিকা, মানবসম্পদ উন্নয়ন নীতি, জনসংখ্যার কাম্য অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন পদ্ধতি, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবেশের সম্পর্ক, জনশক্তি পরিকল্পনা, গবেষণা পদ্ধতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

গ. পৌরনীতি ও সুশাসনের লক্ষা হলো সাধারণ নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। অন্যদিকে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চাও চায় জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হোক। সুতরাং উভয়ের লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন।

ঘ. পৌরনীতি ও সুশাসন এবং জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার মধ্যে বিষয়বস্তুগত অনেক সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। উভয় শাস্ত্রই রাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণের আচার-আচরণ, সমস্যাদি, জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে উদ্ভূত সমস্যা এবং সমস্যাবলির নিরসনে নানা উপায় নিয়ে আলোচনা করে।

ঙ. পৌরনীতি পাঠ ও জ্ঞান রাষ্ট্রে সুশাসনের পথ প্রশস্ত করে। আর তখন দেশের জনসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম বা অধিক না হয়ে কাম্য জনসংখ্যায় পরিণত হয়। তখনই সুশাসন নিশ্চত করা সম্ভব হয়। তাই পৌরনীতি ও সুশাসন এবং জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চা একে অপরের পরিপূরক ও সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার সাদৃশ্যের পাশাপাশি বেশকিছু ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্যও পরিলক্ষিত হয়। যেমন- সময় ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চা অনেকটা নবীন বিষয়, কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন প্রাচীন ও অনেকটা সুসংহত।

পৌরনীতি ও সুশাসনের মূল আলোচ্য বিষয় হলো নাগরিকতা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ। যেমন- কীভাবে নাগরিকতা অর্জন করা যায়, কীভাবে সুনাগরিক হওয়া যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ কী কী ইত্যাদি। অপরদিকে, জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার মূল আলোচ্য বিষয় হলো জনসংখ্যা সমস্যা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিসমূহ, কীভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা যায় ইত্যাদি।।

পৌরনীতি ও সুশাসনের অনুশীলন পদ্ধতি মূলত ঐতিহাসিক এবং তুলনামূলক, আর জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার অনুশীলন পদ্ধতি প্রধানত গাণিতিক। আদর্শ ও বস্তুনিষ্ঠতার দিক থেকেও উভয় শাস্ত্রের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পৌরনীতি ও সুশাসন একটি আদর্শ নির্ভর সামাজিক বিজ্ঞান। মূর্ত ও বিমূর্ত সব বিষয় নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। অন্যদিকে, জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চা মূর্ত ও বস্তুনিষ্ঠ বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে থাকে।

একটি দেশের উন্নয়নের সাথে জনসংখ্যার বিষয়টি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একটি দেশের জনগণকে যদি দক্ষ, শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা হয় তবে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়। ফলে নাগরিক জীবনেও গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয়। এ কারণে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়টি পারস্পরিক নির্ভরতার প্রশ্নে বেশ গুরুত্ব বহন করে।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন চর্চার সম্পর্ক এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url