মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক কার্যাবলি কী?

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক কার্যাবলি কী? নিয়ে আলোচনা করব।

মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক কার্যাবলি কী? অথবা, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অধিবাসীদের উপজীবিকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক কার্যাবলি কী?

ভূমিকা: বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি লোক এ অঞ্চলে বাস করে। বিস্তীর্ণ সমভূমি, আরামদায়ক জলবায়ু, সহজ কৃষিকাজ, যাতায়াতের সুবিধা ইত্যাদি থাকার কারণে এ অঞ্চলে ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা (চীন ও ভারতের) এ অঞ্চলে দেখা যায়। এ অঞ্চলের অধিবাসীদের ৮০% কৃষিকাজে নিয়োজিত। নিম্নে মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসীদের কার্যাবলি আলোচনা করা হলোঃ

  1. যাতায়াত ব্যবস্থা: এ অঞ্চলের যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত। জলপথ, স্থলপথ ও আকাশপথে পরিবহন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে। এসব অঞ্চলের অধিবাসীরা দ্রুত পণ্য আনা-নেয়া করতে পারে।
  2. চাষাবাদঃ কৃষিই মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রধান পেশা। বৃষ্টিবহুল এ অঞ্চলে অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল রয়েছে। নদীবাহিত পলল দ্বারা বহু উর্বর সমভূমি গঠিত হয়েছে। উর্বর ভূমি, প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং পরিমিত তাপ ইত্যাদির কারণে এ অঞ্চল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কৃষি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রায় ৮০ ভাগ কৃষিজীবী। এ অঞ্চলের ভূমিতে ধান, গম, যব, ভুট্টা, কফি, চা, পাট, তুলা, আখ, তামাক প্রভৃতি ফসল উৎপন্ন হয়।
  3. খনিজ সম্পদঃ মৌসুমি অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এদের মধ্যে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, লোহা, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর, অভ্র প্রভৃতি প্রধান। এসব খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও পরিশোধনে নিয়োজিত থেকে অনেক লোক জীবিকা অর্জন করে।
  4. জীবজন্তু ও প্রাণিজ : এ অঞ্চলে বন্যপ্রাণী এবং গৃহপালিত জন্তু উভয়ই দেখা যায়। বন্যপ্রাণীর মধ্যে বাঘ, সিংহ, হাতি, বানর, হরিণ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি দেখা যায়। গৃহপালিত পশুর মধ্যে গুরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি প্রধান। এসব গৃহপালিত পশুর মাধ্যমে বহুলোক জীবিকা অর্জন করে।
  5. উদ্ভিদ ও বনজ সম্পদ: বাংলাদেশের ও ভারতের সুন্দরবন মৌসুমি জলবায়ুর সৃষ্টি। এছাড়া কাঠ, বাঁশ, বেত, মধু, ভেষজ ও অন্যান্য উপকরণ মূল্যবান বনজ সম্পদ।
  6. অধিবাসী ও তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড: প্রধান উপজীবিকা কৃষি। বর্তমানে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, শিল্প, চাকরি ও অন্যান্য পেশা সমৃদ্ধি ও প্রসার লাভ করেছে। এ অঞ্চলের লোক ধর্মভীরু হলেও অলস ও কর্মবিমুখ।
  7. ব্যবসা-বাণিজ্যঃ কুটির শিল্প, কাঁচামালভিত্তিক শিল্প, যেমন-পাট, তৈরি পোশাক ইত্যাদি শিল্পের প্রসার লাভ ঘটেছে। (জ) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাঃ সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও জ্ঞানের যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনার লক্ষ্য নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগুচ্ছে।

উপসংহারঃ মৌসুমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, খনিজ ও বনজসম্পদে সমৃদ্ধ। প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবহার করে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক কার্যাবলি কী? এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url