আধুনিক অর্থনীতিতে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বর্ণনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে আধুনিক অর্থনীতিতে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বর্ণনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

আধুনিক অর্থনীতিতে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বর্ণনা কর। অথবা, খনিজ সম্পদ কাকে বলে? খনিজ সম্পদের গুরুত্ব/প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।

আধুনিক অর্থনীতিতে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বর্ণনা কর

ভূমিকা: প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো খনিজ সম্পদ। খনিজ সম্পদ প্রকৃতির দান। ভূ-ভাগের অভ্যন্তরে সঞ্চিত প্রাকৃতিক সম্পদকে খনিজ সম্পদ বলে। উত্তোলন ও ব্যবহার ছাড়া খনিজ সম্পদ সৃষ্টিতে মানুষের কোনো হাত নেই। জনগণের কল্যাণের জন্যই খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা হয়। বর্তমানে বিজ্ঞান ও কারিগরি যুগ সম্পূর্ণরূপে খনিজ সম্পদ নির্ভর।

খনিজ সম্পদের গুরুত্বঃ আধুনিক অর্থনীতিতে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

  1. শিল্পের কাঁচামাল: প্রায় সব ধরনের খনিজ দ্রব্যই কোনো না কোনো শিল্পের কাঁচামাল যেমন- লোহা-ইস্পাত শিল্পে, চুনাপাথর, সিমেন্ট, শিল্পে গ্যাস সার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  2. জ্বালানি ও শক্তি সম্পদ: শিল্প ও বড় বড় উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যে শক্তি সম্পদের দ্বারা চলে তা প্রধানত খনিজ সম্পদ থেকে আসে।
  3. যন্ত্রপাতি তৈরি: ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় পর্যন্ত সর্বত্রই কিছু না কিছু যন্ত্রের ব্যবহার লক্ষণীয় আর যন্ত্রপাতি উৎপাদন খনিজ সম্পদেরই অবদান।
  4. বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম: বর্তমান যুগ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের যুগ। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরিতে তামা, দস্তা, লোহা ইত্যাদি খনিজ সম্পদ ব্যবহৃত হয়।
  5. পরিবহন: বিশ্বের পরিবহন শিল্প সম্পূর্ণভাবেই খনিজ সম্পদ নির্ভর। মোটরগাড়ি, জলযান, উড়োজাহাজ প্রভৃতি লোহা থেকে তৈরি এবং এদের চালানোর জন্য খনিজ তেল ব্যবহৃত হয়।
  6. শিল্পায়ন: অনুন্নত বিশ্বে খনিজ সম্পদ উত্তোলন, গবেষণা, সরবরাহ ইত্যাদিতে নিয়োজিত রয়েছে।
  7. কর্মসংস্থান: বিশ্বে লক্ষ লক্ষ লোক খনিজ সম্পদ উত্তোলন, গবেষণা, সরবরাহ ইত্যাদিতে নিয়োজিত রয়েছে।
  8. বাণিজ্যের প্রসার: বাণিজ্য বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি। খনিজ সম্পদ বাণিজ্যের প্রসারে সহায়তা করে। ঘাটতি অঞ্চলে আমদানি ও উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে রপ্তানির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়।
  9. সভ্যতার বিকাশ: খনিজ সম্পদ মানুষের দ্রব্য ব্যবহারের সুযোগ বাড়িয়ে মানুষকে আরও সুসভ্য করে তোলে যেমন- খনিজ দ্রব্যের সাহায্যে উৎপাদিত অলংকার, তৈজসপত্র, দৈনন্দিন ব্যবহার্য খুঁটিনাটি দ্রব্য মানবসভ্যতাকে বিকশিত করে।
  10. অবকাঠামো নির্মাণ: একটি দেশের অবকাঠামো নির্মাণে খনিজ সম্পদের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে রাস্তাঘাট ও দালানকোঠা নির্মাণে কয়লা ও লোহার অবদান রয়েছে।
  11. রাজনৈতিক হাতিয়ার: খনিজ সম্পদ একটি দেশের রাজনৈতিক গুরুত্বকে বৃদ্ধি করে। যেমন- শুধু খনিজ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি।
  12. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: খনিজ দ্রব্য শিল্পায়ন, আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসার ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে একটি দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  13. আসবাবপত্রের কাঠামো: গৃহের সাজসরঞ্জাম, বাসনপত্রাদি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকাবালি, দস্তা ইত্যাদি খনিজ দ্রব্য এসব উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উপসংহারঃ সর্বোপরি বলা যায় যে, খনিজ সম্পদ একটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি রচনা করে। সুতরাং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব ও অবদান অনেক।

আরো পড়ুনঃ মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলি ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের উপর জলবায়ুর প্রভাব বর্ণনা কর।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। আধুনিক অর্থনীতিতে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বর্ণনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url