সংগঠনের সংজ্ঞা দাও | আধুনিক অর্থনীতিতে সংগঠক বা উদ্যোক্তার কার্যাবলি আলোচনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে সংগঠনের সংজ্ঞা দাও | আধুনিক অর্থনীতিতে সংগঠক বা উদ্যোক্তার কার্যাবলি আলোচনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

সংগঠনের সংজ্ঞা দাও | আধুনিক অর্থনীতিতে সংগঠক বা উদ্যোক্তার কার্যাবলি আলোচনা কর

সংগঠনের সংজ্ঞা দাও। আধুনিক অর্থনীতিতে সংগঠক বা উদ্যোক্তার কার্যাবলি আলোচনা কর। অথবা, আধুনিক অর্থনীতিতে উদ্যোক্তার কার্যাবলি সংক্ষেপে আলোচনা কর।

সংগঠন: সংগঠন উৎপাদনের একটি উপাদান। শ্রম, ভূমি, মূলধন প্রভৃতি উপাদান সংগ্রহ, সমন্বয় ও সংযোগ সাধনকে 'সংগঠন' বলে। আধুনিক অর্থনীতিতে ঝুঁকিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা সংগঠন ব্যতীত পরিচালনা করা খুবই দুরূহ।

ভূমি, শ্রম এবং মূলধনের যথোপযুক্ত সমন্বয়ে উপরই উৎপাদনের সাফল্য নির্ভর করে। আধুনিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহের সমন্বয় সাধন করে উৎপাদন কাজে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
  • হ্যানি বলেন, "কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য বা উদ্দেশ্যাবলি সাধনকল্পে বিশেষায়িত উপাদানের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনকে সংগঠন বলে।"
  • মিলওয়ার্ড-এর মতে, "কর্ম ও কর্মীর মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্কই হলো সংগঠন।"

কাজেই উপরিউক্ত সংজ্ঞার আলোকে আমরা উৎপাদনের জন্য ভূমি, শ্রম ও মূলধনের প্রয়োজনমতো সংগ্রহ, সংযোগ ও নিয়োগকে সংগঠন বলতে পারি। আর যে এরূপ উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা গ্রহণ করে সে হলো সংগঠক। অতএব, সংগঠকের কাজই হলো সংগঠন।

সংগঠক বা উদ্যোক্তার কার্যাবলি: সংগঠক বা উদ্যোক্তা বলতে কোনো উৎপাদনের জন্য যে বা যারা উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাকে বা তাদেরকে বুঝায়। আধুনিক উৎপাদন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি পরিচালনা করতে হয়, সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো: 

  1. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ: উদ্যোক্তাকে উৎপাদন সংক্রান্ত যাবতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ করতে হয়। কোনো দ্রব্য কোথায়, কতটুকু, কীভাবে উৎপাদিত হবে; তা 'শ্রমভিত্তিক' না মূলধনভিত্তিক হবে তাও তাকে নির্ধারণ করতে হয়।
  2. উৎপাদন বাস্তবায়ন: কাঁচামালের উৎস, উৎপাদিত দ্রব্যের গুণাগুণ বা মান, বাজারজাতকরণ, দাম নির্ধারণ, লভ্যাংশ নিরূপণ ইত্যাদি বিষয়ে উদ্যোক্তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।
  3. উৎপাদন সংগ্রহ ও সমন্বয় সাধন: আনুপাতিক এবং প্রয়োজনমতো, সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষম হারে ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সংগ্রহ এবং দক্ষতা অনুযায়ী সেগুলোর সমন্বয় সাধন ও পরিচালনা করা উদ্যোক্তার কাজ।
  4. ঝুঁকি বহনঃ যে-কোনো উৎপাদন কাজে লাভ-লোকসান হতে পারে। উৎপাদন ও বিক্রয়ের মধ্যে সময়, ক্রেতার পছন্দ ইত্যাদি 'অন্যান্য অবস্থা' পরিবর্তনের ফলে অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি থাকে, যা উদ্যোক্তাকে বহন করতে হয়।
  5. তত্ত্বাবধানের দায়িত্বঃ উৎপাদন কার্যক্রম, শ্রমিকদের দায়িত্ব পালন ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় উদ্যোক্তাকে তত্ত্বাবধান বা তদারক করতে হয়।
  6. বাজারজাতকরণ: উদ্যোক্তাকে পণ্য অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক বাজারে বাজারজাত করতে হয়। সেজন্য গুদামজাতকরণ, প্রচার ও পরিবহন, উপস্থাপন সবকিছু তদারকি উদ্যোক্তাকেই করতে হয় এবং বাজার সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হয়।
  7. নতুন বাজার অনুসন্ধানঃ সংগঠনকে তার উৎপাদিত দ্রব্য অধিকতর বিক্রয় ও লাভের জন্য নতুন নতুন বাজারের অনুসন্ধান করতে হয়। চাহিদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হয়।
  8. বিজ্ঞাপন, প্রচার ও নমুনাকরণ: উদ্যোক্তাকে তার পণ্য বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য নমুনাকরণের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রচারকার্য চালাতে হয়।
  9. উৎপাদন পদ্ধতি আধুনিকীকরণ ও নতুন আবিষ্কার: ক্রেতার রুচি ও চাহিদা মোতাবেক নতুন নতুন দ্রব্য আকর্ষণীয় ও কম দামে উৎপাদনের জন্য পদ্ধতি আধুনিকীকরণ করে বা নতুন আবিষ্কার উদ্যোক্তাকে করতে হয়।
  10. শ্রমবিভাজন: উদ্যোক্তাকে তার উৎপাদন ক্ষেত্রে শ্রম বিভাগ করতে হয়। এ ছাড়া দক্ষতার ভিত্তিতে অধিক উৎপাদন, দ্রব্যের মান বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হয়।

উপসংহার: উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় উদ্যোক্তার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংগঠনের উদ্যোক্তাই হলো কারবারের কর্তা।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। সংগঠনের সংজ্ঞা দাও | আধুনিক অর্থনীতিতে সংগঠক বা উদ্যোক্তার কার্যাবলি আলোচনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url