পোল্ট্রি পালন ও ব্যবস্থাপনা ধারণা

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে পোল্ট্রি পালন ও ব্যবস্থাপনা ধারণা নিয়ে আলোচনা করব।

পোল্ট্রি পালন ও ব্যবস্থাপনা ধারণা

পোল্ট্রি পালন ও ব্যবস্থাপনা (Poultry rearing and management) ডিম ও মাংস উৎপাদন এবং অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত উপায়ে যে সকল পাখি গৃহে পালন করা হয় সেগুলোকে পোল্ট্রি বলা হয়। যেমন- মুরগি, হাঁস, কবুতর, কোয়েল, পি-ফাউল, গিনি ফাউল, তিতির, টার্কি, রাজহাঁস ইত্যাদি। আর পোল্ট্রি পালন বলতে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পোল্ট্রির প্রজনন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, ডিম ফুটানো, আবাসস্থল তৈরি, সুষম খাদ্য, চিকিৎসা ব্যবস্থা, খামার পরিচালনা ও উৎপন্ন দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করা ইত্যাদিকে বুঝায়।

পোল্ট্রির ধারণা (Concept of poultry)

  1. পোল্ট্রি (Poultry): যে সকল গৃহপালিত পাখিকে ডিম ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে খাবার ও পুষ্টি চাহিদা মেটানোসহ অর্থোপার্জনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত উপায়ে লালন-পালন করা হয় তাকেই পোল্ট্রি বলে। যেমন- মুরগি, হাঁস, রাজহাঁস, কবুতর, কোয়েল, টার্কি, তিতির ইত্যাদি। মুরগির বাচ্চা ডিমের ভেতর থেকে মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
  2. বেবি চিক (Baby chick): মুরগির নবজাত বাচ্চা বা ছানাকে বেবি চিক বলে।
  3. পুলেট (Pullet): এক বছরের কম বয়সী মুরগিকে পুলেট বলে। এ বয়সে পুলেট ডিম দেওয়া আরম্ভ করবে বা প্রথমবারের মতো ডিম দেওয়া শুরু করেছে। এ বয়সের মুরগিকে অঞ্চলভেদে ডেগী বা ডেকরী বলে। আবার কোথাও কোথাও নলী ও চিল্লি বলে।
  4. মুরগি (Hen): পুলেট যখন ডিম দেওয়া শুরু করে এবং বয়স এক বছর বা ততোধিক হয় তখন থেকে তাকে মুরগি বলে।
  5. ককরেল (Cockerel): এক বছরের কম বাড়ন্ত বয়সের মোরগকে ককরেল বলে।
  6. মোরগ (Cock): এক বছরের বা তার বেশি বয়সের পুরুষ বা ককরেলকে মোরগ বলে। 
  7. কেপন (Capon): মোরগকে যখন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রজনন শক্তি রহিত করে খাসি করা হয়, তখন তাকে কেপন বা খাসি করা মোরগ বলে।
  8. ব্রয়লার (Broiler): অল্প দিনে বেশি পরিমাণে নরম মাংস পাওয়ার জন্য মাংসল জাতের মোরগ-মুরগির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে বা সংমিশ্রণের মাধ্যমে সৃষ্ট ৮-৯ সপ্তাহ বয়সের মোরগ-মুরগিকে ব্রয়লার বলে। ব্রয়লার কখনো ডিম উৎপাদনের জন্য পালন করা হয় না।
  9. লেয়ার (Layer): বেশি ডিম প্রদানকারী উন্নতজাতের মুরগি, যা ১৮ সপ্তাহ বা ততোধিক বয়সের হলে ডিম প্রদান করতে থাকে, তাকে লেয়ার বলে।

পোল্ট্রির বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি: পোল্ট্রির বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-

বৈশিষ্ট্য: ১. পোল্ট্রির অন্তর্গত গৃহপালিত পাখি সবগুলোরই শরীর হালকা পালক দ্বারা আবৃত থাকে। পালকগুলোর গোড়ার দিকটা মোটা ও গোলাকার, হালকা এবং ভিতরটা ফাঁপা থাকে। পাখির শরীরের বাহির দিকের পালকগুলো বড় ও শক্ত এবং পোল্ট্রি পালন ভিতরেরগুলো ছোট ছোট নরম ও পাতলা। ফাঁপা পালকের ভিতরে পাখি বাতাস ধারণ করে শরীরকে হালকা করে উড়তে পারে। তবে পোল্ট্রির মধ্যে সব পাখি সমভাবে উড়তে পারে না। যেমন- কবুতর বেশি উড়তে পারে, কোয়েল সে তুলনায় কম, মুরগি তার চেয়েও কম এবং হাঁস আরও কম উড়তে পারে। 

২. পোল্ট্রিদের ঠোঁট বেশ শক্ত এবং এ শক্ত ঠোঁট দিয়ে খাদ্য ঠুকরিয়ে খেয়ে থাকে। পোল্ট্রির জাতভেদে ঠোঁট বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন- কবুতর ও কোয়েলের ঠোঁট ছোট এবং তীক্ষ্মতাসম্পন্ন, মুরগির ঠোঁট এ দু'টো পাখির চেয়ে বড় এবং শক্ত, হাঁসের ঠোঁট চওড়া ও ভোঁতা।

৩. পোল্ট্রিদের এক জোড়া করে ডানা আছে এবং ডানাগুলো পালক দ্বারা আবৃত থাকে। জাতভেদে পোল্ট্রিদের পাখার পালক একক বা মিশ্র রঙের হয়ে থাকে। কোনো কোনো পোল্ট্রির পালক ও ডানা ছোট ছোট। আবার কোনো কোনো পোল্ট্রির ডানা ও পালক বড় ও চওড়া ধরনের। সব পোল্ট্রিরই আকৃতিভেদে বড় বা ছোট নরম ও হালকা পালক দ্বারা শরীরের নিচের অংশ আবৃত থাকে। ফলে এদের শরীর গরম থাকে।

৪. সকল পোল্ট্রির চোখ গোলাকার ও উজ্জ্বল। গৃহপালিত পোল্ট্রির কোনো কোনো জাতের মাথা বিভিন্ন আকৃতির হয়; তবে লাল বর্ণের ঝুঁটি থাকে। শরীরের তুলনায় মাথা ছোট ও গোলাকার হয়। কিন্তু হাঁসের মাথা কিছুটা লম্বাটে মতো। মুরগিরও কোনো কোনো জাতের হাঁসের গলায় লাল ফুল ও কানের লতির স্থানে লাল-সাদা ফুলের ন্যায় আছে। স্ত্রী পাখিগুলোর মাথা ও গলার ফুল পুরুষ পাখির চেয়ে কিছুটা ছোট।

৫. সাধারণত পোল্ট্রিরা দু'পায়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে। কিন্তু হাঁস মাথা না দুলিয়ে হাঁটতে পারে না। পোল্ট্রির পায়ের আঙ্গুল এমনভাবে সন্নিবেশিত যে গাছের ডালে বা উঁচু স্থানে আঙ্গুল দ্বারা আটকে বসতে পারে। কিন্তু হাঁসের পায়ের আঙ্গুল ব্যতিক্রমধর্মী। যেমন, পাখির পায়ে ৪টি আঙ্গুল থাকে এবং তা পৃথক পৃথকভাবে ছড়ানো। কিন্তু হাঁসের পায়ের আঙ্গুলগুলো পাতলা চামড়া দ্বারা একটির সাথে আরেকটি লাগানো থাকে, ফলে হাঁসই একমাত্র সাঁতার কাটতে পারে। হাঁস ছাড়া অন্যান্য পোল্ট্রির পায়ে নখ আছে এবং তা বেশ শক্ত। পোল্ট্রির মধ্যে মুরগির পায়ে আত্মরক্ষামূলক শক্ত ও ধারালো নখ আছে। হাঁসের পায়ের আঙ্গুলে অন্যান্য পাখিদের ন্যায় ধারালো নখ থাকে না।

৬. পোল্ট্রি স্ত্রী ও পুরুষ আলাদা আলাদা লিঙ্গের হয়ে থাকে। স্ত্রী পোল্ট্রি পুরুষ পোল্ট্রির সান্নিধ্য ছাড়াও ডিম দিতে পারে। কিন্তু সে ডিম উর্বর হয় না। অর্থাৎ সে ডিমে বাচ্চা হয় না। এরা নিজেদের ডিমে নিজেরা তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। এটা তাদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। বাচ্চা ফুটিয়ে নিজেরাই প্রতিপালন করে, সাথে নিয়ে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এমনকি শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য কীভাবে লুকাতে হবে, তাও শিক্ষা দিয়ে থাকে। কোনো কোনো পোল্ট্রি বাচ্চাদের ঠোঁটের মধ্যে খাবার দিয়ে খাওয়ানো শিখায়। পোল্ট্রির আরেকটা বিশেষত্ব হচ্ছে যে এরা ডিমে তা দেওয়ার সময় ডিম পাড়ে না এবং ডিমে তা দেওয়া থেকে দূরেও যেতে চায় না। ডিমে তা দেওয়ার সময় দিনে প্রায় ৫০ বার একটি ডিমকে নাড়াচাড়া করে নেয়।

৭. পোস্ট্রিরা সাধারণত মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করে এবং সহজে পোষ মানে। তাই তাদেরকে গৃহপালিত পাখি হিসেবে গণ্য করা হয়। পালকের বর্ণ, আকার, গলার দৈর্ঘ্যতা, ওজন ইত্যাদি জাতভেদে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ডাক দিলে এরা সাড়া দেয় এবং বাড়ির পরিবেশ ছাড়া দূরে কোথাও তেমনটা যায় না।

৮. বংশ বিস্তারের জন্য স্ত্রী-পুরুষ হাঁস-মুরগিকে নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রতিপালন করতে হয়। তাতে উর্বর ডিম বেশি পাওয়া যায়। এরা নিজেরা ডিম ফুটাতে পারে। আবার মেশিনে একসাথে বহু ডিম ফুটানো যায়।

পোল্ট্রির (মোরগের) দৈহিক পরিচিতি। মোরগের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের নাম ও বর্ণনা নিম্নরূপ-

  1. ঝুঁটি (Comb): মোরগ-মুরগির মাথার উপরের লাল বর্ণের মাংসপিণ্ডকে ঝুঁটি বলে। প্রায় ৮ ধরনের ঝুঁটি দেখতে পাওয়া যায়। তবে অখণ্ড, গোলাপ ও মটর ঝুঁটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়। সাধারণত মোরগের ঝুঁটি মুরগির ঝুঁটি অপেক্ষা বড় হয়। 
  2. নাসারন্ধ (Nostril): ঠোঁট ও ঝুঁটির সংযোগস্থলের নিকট ঠোঁটের উপরের অংশে নাকের ছিদ্র রয়েছে।
  3. ঠোঁট (Beak): ঠোঁট অত্যন্ত শক্ত, সামনের দিকে সুচালো প্রকৃতির, দৃঢ় এবং উপর ও নিচের দিকে দুটি অংশে বিভক্ত, যার দ্বারা মাটি থেকে ঠোকর দিয়ে শস্যকণা খুঁটে খাবার হিসেবে তুলে নিতে পারে।
  4. গলা (Neck): সতর্ক দৃষ্টির জন্য গলা উঁচু নিচু করতে পারে। কিন্তু গলা ছোট পালক দ্বারা আবৃত থাকে।
  5. চোখ (Eye): দুটি উজ্জ্বল গোলাকার চোখ আছে। চোখ দেখে তাদের গতিবিধি স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক এবং উদ্বিগ্নতা বা প্রখরতা নির্ণয় করা যায়।
  6. কানের লতি (Ear lobe): মুরগির কান থেকে যে পাতলা চামড়া ঝুলতে দেখা যায় সেটিই কর্ণলতি। এর রং লাল, ফিকে লাল এবং সাদা বর্ণের হয়ে থাকে।
  7. গলকম্ব (Wattle): ঠোঁটের নিচ থেকে গলার সাথে দু'পাশে যে দুটি লাল মাংসপিণ্ড ঝুলতে দেখা যায় তাকে গলকম্ব বলে।
  8. ডানা (Wing): দুটি পালকবিশিষ্ট ডানা আছে। এর সাহায্যে কিছুটা উড়তে পারে। উড়ার উপযোগী বড় ধরনের পালককে প্রাথমিক পালক বলে, যার সংখ্যা ১০টি। তবে ডানা না মেললে পালক দেখা যায় না। ডানার ছোট পালকগুলোকে গৌণ পালক বলে।
  9. লেজ (Tail): মোরগ-মুরগি উভয়েরই লেজ থাকে। বড় হলে মোরগের লেজের পালক বাঁকা হয়ে কান্তের ন্যায় ঝুলে পড়ে। মুরগির পালক ঝুলে পড়ে না।
  10. পায়ু (Vent): মলমূত্র একত্রে ত্যাগ, ডিম বের হওয়া ও শুক্র বের হওয়ার একটিই ছিদ্র, যা পিছনের দিকে নিম্নাংশে থাকে, তাকে পায়ু বলে।
  11. পা (Leg): মুরগির পায়ের উপরিভাগের নাম উরু, তারপর হকসন্ধি এবং পরের অংশ পা। মুরগির একজোড়া পা থাকে এবং প্রতিটি পায়ে ৪টি করে ছোট-বড় আঙুল থাকে।
  12. পায়ের পিছনের কাঁটা (Spar): মুরগি বয়স্ক ও বড় হলে পায়ের পিছন দিকে কাঁটা গজায়, যা মারামারির সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তবে মুরগির পায়ে কাঁটা গজায় না।

পোল্ট্রির প্রয়োজনীয়তা (Necessities of poultry)

পোল্ট্রির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলো-

১. খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় পোল্ট্রি: মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা দরকার। শুধু খাদ্যের পরিমাণগত প্রাপ্তি হলে হবে না। তা হতে হবে পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ। মানুষের এ পুষ্টি চাহিদা পূরণে মুরগির ডিম একটি উৎকৃষ্ট উৎস। একজন স্বাভাবিক মানুষের জন্য দৈনিক মাংসের প্রয়োজন ১২০ গ্রাম। কিন্তু প্রাপ্যতা হচ্ছে ১০২.৬২ গ্রাম/দিন, যার প্রায় ৩৭ শতাংশ আসে মোরগ-মুরগি থেকে।

পোল্ট্রির প্রয়োজনীয়তা (Necessities of poultry)

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বছরে প্রায় ২৫০ - ৩৬৫টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন, কিন্তু প্রাপ্যতা হচ্ছে ৭০.২৬টি। একটা ডিম থেকে শতকরা হিসেবে পাওয়া যায়- প্রোটিন ১৩.৩%, চর্বি ১৩.৩%, শ্বেতসার ০.১%, খনিজ পদার্থ ১.০%, ক্যালসিয়াম ০.০৬%, ফসফরাস ০.২২%, লৌহঘটিত পদার্থ ২.১ মিলিগ্রাম। এছাড়াও ডিমে ভিটামিন এ, বি, ডি, সি, ই, কে বিদ্যমান। আর ডিম হজম হতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা (কাঁচা), আধা সেদ্ধ দু'ঘণ্টা এবং পুরো সেদ্ধ ৩ ঘণ্টা।

২. অর্থ আয়ের উৎস: বাড়িতে স্বল্প পরিসরে ছোট আকারে পোল্ট্রি খামার পরিচালনা করে অনায়াসে আয় করা সম্ভব, যা একটা ভালো আয়ের উৎস হতে পারে। আমাদের দেশে অর্থ আয়ের উৎস হিসেবে মুরগি পালনের খামার সংখ্যা ০.৬ ২৫ ৪.৮ বাড়ছে। অনেক বেকার যুবক-যুবতীরা পোল্ট্রির ভ্যাকসিন প্রদান করেও আয় করতে পারে।

৩. কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র: পোল্ট্রির চিকিৎসা, টিকা উৎপাদন ও বিতরণ, পোল্ট্রি খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও বিতরণ, ব্রয়লার/লেয়ার খামার স্থাপন, পোল্ট্রির মাংস ড্রেসিং করা ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যেমন- আত্মকর্মসংস্থানে পশু সম্পদে প্রত্যক্ষভাবে ২০% এবং প্রাণী সম্পদে পরোক্ষভাবে ৫০% জনবল নিয়োজিত আছে।

৪. দারিদ্র্য দূরীকরণ: একটি মডেলে দেখা যায় ২০০টি মুরগি পালনকারীর সর্বমোট খরচ হয় ১,৫৬,৯৬২ টাকা এবং আয়ের পরিমাণ ২,০২,৯৫৮ টাকা। প্রকৃত আয় থেকে খরচ বাদ দিয়ে নীট লাভ দাঁড়ায় ৪৫,৯৯৬ টাকা। বাংলাদেশ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের এক তথ্য থেকে জানা যায় যে বাংলাদেশের একজন মানুষের বাৎসরিক জীবনধারণের জন্য (খাদ্য ও অন্যান্যসহ) খরচ হয় প্রায় ৯,০০০ টাকা এবং ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিবারের বাৎসরিক ব্যয় হয় ৪ x ৯,০০০ = ৩৬,০০০ টাকা। সুতরাং যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বছরে থাকে প্রায় ১০,০০০ টাকা, যা লেয়ার পালন করে সম্ভব (২০০৭)।

৫. পোল্ট্রির নাড়িভুঁড়ি, হাড় ও বিষ্ঠা একটি জৈব সার: সারের যাবতীয় গুণাগুণ পোল্ট্রির বিভিন্ন বর্জ্যের মধ্যে পাওয়া যায়। এজন্য পোল্ট্রির বর্জ্যসমূহ সারের বিরাট উৎস। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে পোল্ট্রির বর্জ্য হতে তৈরিকৃত সার ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা রক্ষা হয় এবং ফসলের ফলন বাড়ে।

৬. পোল্ট্রির নাড়িভুঁড়ি ও বিষ্ঠা মাছের খাদ্য: পোল্ট্রির নাড়িভুঁড়ি সিদ্ধ টুকরা টুকরা করে কেটে জলাশয়ে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া এদের বিষ্ঠাও মাছের উপাদেয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে মাছের উৎপাদন অনেকগুণে বৃদ্ধি পায়।

৭. পোল্ট্রির পালক শিল্পে ব্যবহার: পোল্ট্রির পালক পাখা তৈরিতে ও বিভিন্ন ধরনের খেলনায় ব্যবহার করা হয়। এদের ছোট ও নরম পালকগুলো দ্বারা বালিশ, কুশন, তোষক, লেপ, গাড়ির ধুলাবালি পরিষ্কারক ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এতে শিল্প গড়ে উঠে। এমনকি পাখির পালক বিদেশেও রপ্তানি হয়।

৮. গবেষণার ক্ষেত্র: দেশি জাতের পোল্ট্রি ডিম কম দেয় এবং ওজন কম হয়, বিধায় মাংস ও ডিম উভয়ই কম পাওয়া যায়। বিদেশি ও উন্নত জাতগুলো ডিম ও মাংস উভয়ই বেশি দেয়। তাই দেশি ও বিদেশি জাত এবং জংলি জাতের পোল্ট্রির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রজনন করে গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাত সৃষ্টি করা হচ্ছে।

৯. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরি: পোল্ট্রির প্রোজেনি আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করা যায়। র তাতে জাত উন্নয়ন সহজতর হয়।

১০. পোল্ট্রি ফিড, ডিম, চিক, ঔষধ বাণিজ্য: মানুষের খাদ্যের অনুপযোগী চাল, গম, ভুট্টা ইত্যাদি পোল্ট্রির খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিক্রয় বাণিজ্য হতে পারে। আর এর ফলে ডিম, মাংস উৎপাদন হবে। বংশ বিস্তারের জন্য বেবি চিক আমদানি-রপ্তানি করা হয়। আবার পোল্ট্রির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নানা ধরনের ঔষধ/টিকা আমদানি-রপ্তানি করা হয়।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। পোল্ট্রি পালন ও ব্যবস্থাপনা ধারণা এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url