জাতীয় আয় পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে জাতীয় আয় পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

জাতীয় আয় পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর

জাতীয় আয় পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর। যে-কোনো দেশের অর্থনীতিতে জাতীয় আয়ের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, জাতীয় আয় একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিমাপক। কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের প্রকৃত অবস্থা সম্বন্ধে জাতীয় আয়ের পরিমাণ হতে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা যায়। নিম্নে জাতীয় আয়ের পাঠের গুরুত্ব আলোচনা করা হলোঃ

  1. জীবনযাত্রার মান নির্দেশকঃ জাতীয় আয় দেশের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান নির্দেশ করে। কোনো দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান কীরূপ তা সে দেশের জাতীয় আয় হতে জানা যায়। যে দেশের জাতীয় আয় এবং মাথাপিছু আয় যত বেশি সে দেশের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানও তত উন্নত হবে।
  2. অর্থনৈতিক অবস্থার মানদণ্ডঃ জাতীয় আয়কে একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যায়। জাতীয় আয় পাঠের মাধ্যমে কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়। যে দেশের জাতীয় আয় যত বেশি সে দেশ তত উন্নত।
  3. উন্নতি ও অবনতির নির্দেশকঃ জাতীয় আয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও অনবতির নির্দেশক কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি কিংবা অবনতির ঘটছে কি না তা জাতীয় আয় পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
  4. বিভিন্ন তথ্যের সন্ধানঃ অর্থনীতির বিভিন্ন তথ্য লাভের জন্য জাতীয় আয়ের পাঠ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় আয়ের পরিসংখ্যান হতে দেশের উৎপাদন, ভোগ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
  5. অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের অবদান সম্পর্কে ধারণা: একটি দেশের জাতীয় আয়ের বিশ্লেষণ থেকে ঐ দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন খাতের অবদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একটি দেশের অর্থনীতিতে কৃষি, শিল্প, ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রভৃতি বিভিন্ন খাতের অবদান কীরূপ তা জাতীয় আয় পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
  6. বাজেট প্রণয়ন: বাজেটে সাধারণত একটি দেশের প্রত্যেক বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব লিপিবদ্ধ করা হয়। এজন্য জাতীয় আয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে কোনো সরকারের পক্ষে সঠিক বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয় না।
  7. আর্থিক নীতিনির্ধারণঃ মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা সংকোচনজনিত সমস্যাবলি প্রতিরোধের জন্য সরকারকে আর্থিক নীতিনির্ধারণ করতে হয়। এরূপ নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় আয়ের বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  8. জাতীয় আয়ের বণ্টনঃ জাতীয় আয়ের পরিসংখ্যান হতে জাতীয় আয় বণ্টন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তা ছাড়া সম্পদ বণ্টনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা জাতীয় আয়ের বিশ্লেষণের মাধ্যমে দূরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
  9. ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি সম্বন্ধে ধারণা: একটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করতে হলে সে দেশের জাতীয় আয়ের পর্যালোচনা একান্ত অপরিহার্য।
  10. নীতিনির্ধারণঃ জাতীয় আয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একটি দেশের জাতীয় আয়ের পরিমাণ এর পরিবর্তনের ধারা ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে সরকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য নীতিনির্ধারণ করে থাকেন।
  11. অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নঃ আধুনিক কালে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার আশ্রয় নিতে হয়। আর জাতীয় আয়ের ধারণা অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সঠিক জাতীয় আয়ের উপর ভিত্তি করেই সুষ্ঠু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, জাতীয় আয় হলো একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার মাপকাঠি। তাই যে কোনো দেশের অর্থনীতিতে জাতীয় আয় পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। অধ্যাপক বেনহাম তাই যথার্থই বলেছেন, জাতীয় আয়ের বিশদ পর্যালোচনা একটি দেশের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। জাতীয় আয় পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url