ইসলামি অর্থনীতি বলতে কী বুঝায়? ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ইসলামি অর্থনীতি বলতে কী বুঝায়? ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর নিয়ে আলোচনা করব।

ইসলামি অর্থনীতি বলতে কী বুঝায়? ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর

ইসলামি অর্থনীতি বলতে কী বুঝায়? ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর। অথবা, ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলতে কী বুঝায়? ইসলামি অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যাবলি লেখ।

ইসলামি অর্থনীতি: ইসলাম ধর্ম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামি জীবন বিধানে মানবজীবনের সমস্যাবলির সামগ্রিক সমাধান নিহিত রয়েছে। ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলা হয়। এ ব্যবস্থায় আল্লাহ তায়ালার বিধিবিধানের ভিত্তিতে জীবিকা অর্জন ও অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়।

ইসলামি অর্থব্যবস্থা মানবজীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন আলোচনা নয়। এটা মানবজীবনের সামাজিক, ধর্মীয়, নৈতিক অর্থাৎ সামগ্রিক ক্ষেত্রের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামি অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য: ইসলামি অর্থব্যবস্থা পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়। এ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপঃ

  1. মানবজীবনের সামগ্রিক দিকের সাথে সম্পৃক্তঃ ইসলামি অর্থব্যবস্থা মানবজীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন বা আংশিক ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করে না। মানবজীবনের সমগ্র ক্ষেত্র এর আওতাভুক্ত। আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষসহ সব দ্রব্যসামগ্রী ও বস্তুসম্পদ সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ ব্যবহার করবে, ইসলামি অর্থনীতি এ কথাই বলে।
  2. মানুষের অধিকার ও দায়িত্বে বিরোধ বা বৈষম্য নেই: ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সমাজের ব্যক্তি ও সমষ্টির অধিকার, কর্তব্য ও দায়িত্বে কোনরূপ বিরোধ বা বৈষম্য নেই। কারণ এ ব্যবস্থায় প্রত্যেক ব্যক্তিকে মর্যাদা এবং জীবনধারণের অধিকার দেয়া হয়। প্রত্যেকে যেমন তার পূর্ণ অধিকার ভোগ করে তেমনি সে সামাজিক কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হয়। এ ব্যবস্থায় পরিপূর্ণ সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
  3. মানবকল্যাণে সব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারঃ ইসলামি অর্থব্যবস্থায় দেশের সমগ্র প্রাকৃতি ও মানবিক সম্পদকে মানুষের আয়ত্তাধীন এবং তার কল্যাণে ব্যবহারের কথা বলা হয়। এ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক প্রচেষ্টা দ্বারা সম্পদের কল্যাণমূলক ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
  4. বৈষয়িক উন্নতির সাথে নৈতিক উন্নতির সমন্বয় সাধনঃ ইসলামি অর্থব্যবস্থায় মানুষের বৈষয়িক উন্নতির সাথে তার নৈতিক উন্নতির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। কারণ নৈতিক উন্নতি ছাড়া বৈষয়িক উন্নতি সমাজে দুর্নীতি ও পরিণামে অনুন্নতি সৃষ্টি করতে পারে।
  5. সম্পদের আমানতদারি মালিকানা: ইসলামি অর্থব্যবস্থায় মানুষ স্রষ্টার সবরকম দান থেকে পার্থিব সম্পদ উৎপাদন ও বিতরণ করতে পারে। এ ব্যবস্থায় সম্পদ ও সম্পত্তিতে মানুষের নিরঙ্কুশ মালিকানা স্বীকৃত নয়। সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষ নিজেকে কেবলমাত্র স্রষ্টার আমানতদার হিসেবে গণ্য করে। এজন্যই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাফল্য মানুষের চরিত্রে দুর্নীতি ও লোভ সৃষ্টি করতে পারে না।
  6. শ্রমের মর্যাদাঃ ইসলামি অর্থব্যবস্থায় শ্রমের উচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ইসলামি সমাজে শ্রম ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক অধিকার স্বীকৃত নয়। এ সমাজে নারীকেও শ্রমের বিনিময়ে ভোগের অধিকার দেয়া হয়েছে। রাসূলে করীম (স) শ্রমকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো কাজই নীচু কাজ নয়। আল-হাদিসে উল্লেখ আছে, সেরা উপার্জন হচ্ছে কর্মীর হাতে (শ্রমের) উপার্জন যখন সে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে।
  7. অপচয় ও বিলাসের সমর্থন নেই: ইসলামি অর্থব্যবস্থায় শরিয়াহ বিধিবিধান দ্বারা ভোগকর্ম নিয়ন্ত্রিত। এজন্য এখানে অপচয় ও বিলাসকে সমর্থন করা হয় না। অর্জিত আয়ের ব্যয় ও বণ্টন অবশ্যই হতে হবে উৎপাদনমুখী। অর্জিত উদ্বৃত্ত আয়-ব্যয় করতে হবে আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।

পরিশেষে বলা যায় যে, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ হলো ইসলামি অর্থনীতির মূল উৎস। সুতরাং ইসলামি অর্থনীতিতে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পথেই যাবতীয় অর্থনেতিক কার্যাবলি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। ইসলামি অর্থনীতি বলতে কী বুঝায়? ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url