বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষির ধারণা

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষির ধারণা নিয়ে আলোচনা করব।

বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষির ধারণা

বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ। তাই এ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিতে উন্নয়ন হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। কৃষি হচ্ছে একটি জটিলমাত্রার বিজ্ঞান, যা মৃত্তিকা ও মৃত্তিকা রসায়ন, মৃত্তিকার ভৌত গঠন, পানি (সুপেয়) ও পানিতে ভারি খনিজ পদার্থ ও রাসায়নিক মিশ্রণ মাত্রা। আবহাওয়ার উপাদানসমূহ ফসল উৎপাদনের অনুকূলে থাকলেই একমাত্র ফসল উৎপাদন নিশ্চিত হবে।

তেমনি মৎস্য জীবের পরিবেশ, গবাদিপশু ও পোল্ট্রির সুষ্ঠু অবস্থান এবং ধরিত্রীকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে রাখতে পারলে কৃষি হবে টেকসই ও সফল। কেননা এর মধ্যেই রয়েছে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণ। বাংলাদেশের ফসলের নিবিড়তা ১৯২%, প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.০৫ এবং কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধির হার ২.৬০ (২০১৫-১৬)। জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদের প্রবৃদ্ধির হার ১.৭৩% এবং অবদান ৩.২১%, কৃষি জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ১৪.২১%।

মৎস্য সম্পদের অবদান কৃষি জিডিপিতে ২৩.১২% এবং জিডিপিতে ৩.৬৯%। জিডিপিতে বনজ সম্পদের অবদান ১.৭১%, কৃষি খাতের অবদান ১৪.৭৫% (২০১৫-১৬)। কৃষিজ সকল পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালসহ প্রতিদিন চাহিদার পরিমাণ উৎপাদন অপেক্ষা বৃদ্ধি পাওয়ায় সমতা আনয়নে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ এবং তা প্রয়োগের প্রচেষ্টা চলছে।

কৃষির ধারণা (Concept of Agriculture)

পৃথিবীতে আবির্ভাবের পর প্রথম অবস্থায় মানুষ ছিল চরম অসহায়। ক্ষুধা নিবারণের জন্য আদিকালে গুহাবাসী মানুষ বনে- জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়ে গাছের ফল, মূল, বীজ, লতাপাতা, পশুপাখি ইত্যাদি খাওয়া শুরু করেছিল। মানুষ এ ধরনের জীবনযাপনকে এক সময় কষ্টসাধ্য বিপদসংকুল বুঝতে পারল।

তাই কোনো স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা ও এর ধারাবাহিকতায় খাদ্য উৎপাদন ও সংগ্রহ করার পরিক্রমায় কৃষির সূচনা হতে শুরু করল। কৃষির সেই সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পরিক্রমায় কৃষি আজ আধুনিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আজ কৃষিতে সমৃদ্ধি লাভ করে নিজেদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির একক অবদান সবচেয়ে বেশি। এদেশের জাতীয় উন্নতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মের সংস্থান, শিল্পায়ন ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ, দারিদ্র্য দূরীকরণ ইত্যাদিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুগসই, লাগসই ও টেকসই উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ দেশের প্রায় সবাই কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। তাই কৃষিকে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের মেরুদণ্ড বলা হয়।

কৃষির ইংরেজি Agriculture শব্দটি ল্যাটিন শব্দ হতে এসেছে। Ager (Field বা জমি) এবং Cultura (Cultivation বা । চাষ) শব্দ দুটির সমন্বয়ে Agriculture শব্দটি গঠিত হয়েছে। এক সময় শুধু জমি চাষ করে ফসল উৎপন্ন করার পদ্ধতিকেই কৃষি বলা হলেও সময়ের পরিক্রমায় কৃষির পরিধি ও পরিসর সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে ফসল উৎপাদন, পশু-পালন, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, বনায়ন ইত্যাদি বিষয়গুলোও কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয়।


ক. খাদ্য: জীবন্ত সকল প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য অবশ্যম্ভাবী প্রয়োজন। আর তা সম্পূর্ণভাবে আসে কৃষি হতে। তাই, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো উন্নয়নই সুশৃঙ্খল ও টেকসই করা সম্ভব নয়।

খ. বস্ত্র: মানুষের মান-সম্ভ্রম রক্ষা ও মান-মর্যাদার উন্নয়নের প্রধান উপাদান হলো বস্ত্র যা সভ্যতার প্রতীক। আর বস্ত্রের কাঁচামাল হলো তুলা, রেশম, পাট, বিভিন্ন তন্তু; যার উৎস হচ্ছে কৃষি।

গ. বাসস্থান: মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাসস্থান প্রয়োজন। নানাবিধ প্রতিকূল অবস্থা তথা জীবজন্তুর ভয় হতে সুরক্ষিত থাকা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, শীত-গ্রীষ্ম, রোদ-বৃষ্টি হতে রক্ষা পাওয়া ও আরাম-আয়েশের জন্য প্রয়োজন বাসস্থান। বাসস্থানের সৌন্দর্যবর্ধন, আসবাবপত্র এবং নির্মাণসামগ্রী যেমন- গোলপাতা, কাঠ, খুঁটি ইত্যাদি আসে কৃষি হতে।

ঘ. চিকিৎসা: মানুষ ও জীবজন্তুর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরির কাঁচামালসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদির প্রায় সবগুলোই আসে কৃষিজাত পণ্য অর্থাৎ গাছ-গাছড়া হতে।

ঙ. শিক্ষা: শিক্ষার উপকরণ হলো কাগজ, পেন্সিল, রুলার, গণনা গুটি, রাবার, আঠা ইত্যাদি। এসব উপকরণসমূহ কৃষিজাত দ্রব্য যথা- কাঠ, বাঁশ, আখের ছোবড়া, কচুরিপানা, সবুজ পাট, গাছের কষ ইত্যাদি হতে আসে।

মাঠ ফসল (Field Crops)

যেসব উদ্ভিদের খাদ্য ও আর্থিক উপযোগিতা আছে এবং তুলনামূলক কম পরিচর্যার প্রয়োজন হলেও উঁচু-নিচু সব ধরনের জমিতে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলা হয়। যা কৃষিতাত্ত্বিক ফসল বলেও পরিচিত। দেশের মোট অবাদি জমির প্রায় ৭০ ভাগ জমিতে মাঠ ফসল চাষ করা হয়।

7 মাঠ ফসলের সকল গাছকে সাধারণত সমষ্টিগতভাবে যত্ন করা হয়। যেমন- ধান, গম, পাট, সরিষা, কালাই জাতীয় বিভিন্ন ফসল, যব, বার্লি, চিনা, কাউন, পাট, ভুট্টা ইত্যাদি। মাঠ ফসলের অনেক বীজ একসাথে ছিটিয়ে বা লাইনে বপন বা রোপণ করা হয়, আঁচড়ার সাহায্যে বহু গাছের জন্য একসাথে নিড়ানি দেওয়া হয়, এক সাথে ফসল কাটা হয়। সাধারণত একই জমিতে বছরে এক বা দুইবার মাঠ ফসল চাষ করা হয়।

মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য: মাঠ ফসলের কতকগুলো সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন-

  1. প্রতিটি গাছ/চারার পৃথক পৃথক যত্নের প্রয়োজন হয় না।
  2. সাধারণত একসাথে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়।
  3. মাঠ ফসলের জমিতে ঘেরা/বেড়ার প্রয়োজন হয় না।
  4. সমস্ত মাঠের ফসল একসাথে কর্তন/সংগ্রহ করা যায়।
  5. মাঠ ফসলের বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বপন করা হয়।
  6. নিচু ও মাঝারি নিচু জমিতে চাষ করা যায়।
  7. সকল ফসল সংরক্ষণ করা যায়।

১. দানা বা খাদ্য ফসল (Cereal crops): খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য যে সমস্ত দানা শস্য ব্যাপক ভিত্তিতে চাষাবাদ করা হয় সেগুলো দানা ফসলের অন্তর্গত। ব্যাপকভিত্তিতে চাষাবাদ করা ফসলকে মাঠ ফসলও বলা হয়। দানা ফসলের মধ্যে ধানকে অন্যতম প্রধান দানা ফসল হিসেবে ধরা হয়। প্রায় ৪০টির ন্যায় মাঠ ফসল বাংলাদেশে চাষ হয়; কিন্তু সমস্ত মাঠ ফসলের মধ্যে একমাত্র দানা ফসলই প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে উৎপাদন হতে দেখা যায়, যার মধ্যে ধানই প্রায় ৭৮-৮০ ভাগ।

বাংলাদেশে ধানের জমির পরিমাণ ক্রমাগত পরিবর্তন হয়ে অন্য ফসলের আওতায় চলে যাচ্ছে। ধানী ফসলের জমির বেশির ভাগই ফল চাষের আওতায় চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ১৯৭০ সালে গড়ে ১.০৫ মে. টন/হেক্টর ধান উৎপাদন হতো। কিন্তু ২০১৪-১৫ সালে ৩.০৫ মে. টন/হেক্টর উৎপাদন হয়েছে। অথচ প্রতিনিয়ত জমি তথা ধানী জমি কমলেও একর বা হেক্টর প্রতি জমিতে উৎপাদন সন্তোষজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫টি হাইব্রিড ও মোট ৭৮টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত ব্রি কর্তৃক উদ্ভাবিত হয়েছে।

ব্রি উদ্ভাবিত উফশী জাতের ধান মোট ধানী জমির প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে এবং মোট উৎপাদনের প্রায় ৯১% এ থেকে উৎপাদন হচ্ছে। শুধু তাই-ই নয় ব্রিধান ৬২, ৬৪ ও ৭২, ৭৪ জাত জিঙ্ক সমৃদ্ধ এবং বিশ্বে প্রথম জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান, ব্রি কর্তৃক উদ্ভাবিত। এছাড়া ব্রিধান ৪১, ৪৭, ৬১, ৭৩, ৭৮ জাত লবণাক্ত সহিষ্ণু এবং ব্রিধান ৫১ ও ৫২ জাত ১৪ দিন জলমগ্ন থাকলেও পরে সমানভাবে ফলন দিতে পারে।

এছাড়াও জোয়ারভাটা এলাকার জন্য ব্রিধান ৭৬ ও ৭৭ অত্যন্ত উপযোগী। ব্রিধান উদ্ভাবিত ধানের জাতের মধ্যে ব্রিধান ৫০ ও বিনা উদ্ভাবিত ধানের জাতের মধ্যে বিনাধান ১৩ সুগন্ধিযুক্ত এবং বিনাধান ১০ লবণাক্ততা সহিষ্ণু। বাংলাদেশে দানা ফসলের মধ্যে গমের স্থান উৎপাদনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও সাম্প্রতিককালে ভুট্টার চাষ দ্রুতহারে সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ভুট্টা দ্বিতীয় স্থান শীঘ্রই দখল করবে।

যেহেতু ভুট্টা রবি, খরিফ উভয় মৌসুমেই চাষ করা যায়। ভুট্টা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল পৃথিবীর প্রধান সারির দেশ হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি ভুট্টা চাষের খুব উপযোগী। বাংলাদেশে উৎপাদিত দানা ফসল হচ্ছে- ধান, গম, যব, চিনি, বার্লি, কাউন, ভুট্টা ইত্যাদি।

২. ভাল ফসল (Pulse crops): বাংলাদেশে ডাল জাতীয় ফসলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় খেসারি, দ্বিতীয় অবস্থানে মসুর, তৃতীয় অবস্থানে মুগ, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে যথাক্রমে ফেলন ও ছোলা। ডাল ফসলের মোট জমি এবং উৎপাদনের শতকরা প্রায় ৬১ ভাগই ফরিদপুর, পাবনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া এবং খুলনা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ।

তবে মুগডাল নাটোর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিনা) যথাক্রমে ছোলার ৫টি, মসুরের ৪টি, খেসারির ৪টি, মুগের ৭টি, মাষকালাইয়ের ২টি জাত এবং ছোলার ৮টি, মসুরের ৯টি, খেসারির ১টি, মুগের ৮টি, মাষকালাইয়ের ১টি জাত উদ্ভাবন করেছে। তবে এর মধ্যে মাষকালাই ও মুগই একমাত্র উভয় মৌসুমে চাষ করা যায়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ডাল ফসল হচ্ছে- মসুর, মুগ, খেসারি, ছোলা, মাষকালাই, ফেলন, অড়হর ইত্যাদি।

৩. তেলবীজ ফসল (Oil seed crops): তেলবীজ ফসলের মধ্যে সরিষাই প্রধান। বারি তেলবীজ ফসলের মধ্যে সরিষার এক ৩টি, তিলের ৩টি, চীনাবাদামের ২টি ও সয়াবিনের ১টি জাত এবং বিনা সরিষার ১০টি, চীনাবাদামের ৬টি ও সয়াবিনের ৪টি জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া গর্জন তিল ও তিসির বেশ কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব তেলবীজ ফসলের খৈল মাছ ও পশুখাদ্যসহ জমির সার হিসেবে গুরুত্বের সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে তেল ফসলের মধ্যে তিল চীনে রফতানি হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত তেল ফসল হচ্ছে- সরিষা, তিল, রাই, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী, তিসি, সয়াবিন ইত্যাদি।

৪. আঁশ জাতীয় ফসল (Fibrous crops): পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের অনুকূল। পৃথিবীর মোট পাট উৎপাদনের প্রায় ৮০% পাট বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। কিন্তু নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্তের কারণে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে পাটের উৎপাদন পূর্বের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশে দুই ধরনের পাট বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হয়। যথা- ক. তোষা বা মিঠা পাট ও খ. দেশি বা তিতা পাট। এছাড়াও মেস্তা বা কেনাফ জাতীয় পাটও কিছু কিছু চাষ হয়।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে তোষা পাটের ৬টি ও দেশি পাটের ৮টি এবং কেনাফ ও মেস্তা ৫টি (৩টি+ ২টি) জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। আর বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে ২টি আঁশ পাটের এবং ১টি শাক পাটের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন বা সিনথেটিক আঁশের বিপরীতে পাটের আঁশই একমাত্র পরিবেশবান্ধব। তাই গবেষণা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পাটকে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে উৎপাদিত আঁশ ফসল হচ্ছে- পাট, কেনাফ/মেস্তা, তুলা ইত্যাদি।

৫. চিনিজাতীয় ফসল (Sugar crops): চিনি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফসল থাকলেও বাংলাদেশে আখ থেকেই বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন করা হয়। এছাড়া খেজুর গাছ হতেও অঞ্চলভেদে বাণিজ্যিকভাবে গুড় উৎপাদন করা হয়। আখ একটি অর্থকরী এবং দীর্ঘমেয়াদি ফসল। বাংলাদেশে ২ ধরনের আখ চাষ করা হয়। যথা- ক. চিনি উৎপাদন ও খ. চিবিয়ে খাওয়া। ইক্ষু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ঈশ্বরদী, পাবনা কর্তৃক প্রায় ২০টি আখের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে, তন্মধ্যে ঈশ্বরদী-৩৯ ও ঈশ্বরদী-৪০ জাত দুটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু।

বাংলাদেশে ১৭টি চিনিকল হতে চিনি উৎপাদন হতো। কিন্তু বর্তমানে ১৫টি চিনিকল চালু আছে এবং এ থেকে প্রায় ১ লাখ টন চিনি উৎপাদন হয়। এ চিনিকলগুলোর রিকভারি হার ৬ এর কাছাকাছি, অথচ উন্নত বিশ্বে প্রায় ৯%। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সুপারিশ অনুসারে জনপ্রতি বার্ষিক ১৩ কেজি চিনি বা ১৭ কেজি গুড় খাওয়া দরকার।

কিন্তু জনপ্রতি প্রাপ্তি চিনি ও গুড় মিলিয়ে প্রায় ৬ কেজি। বাংলাদেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৬-১৭ লাখ মে. টন; কিন্তু উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় প্রায় ১৫-১৬ লাখ মে. টন আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত চিনি উৎপাদক ফসল হচ্ছে- আখ, খেজুর, তাল ইত্যাদি। ২০১৪-২০১৫ সালে ঠাকুরগাঁও মিল জোনে সুগারবিট চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে স্টেভিয়া ও খেজুর গাছ হতে চিনি উৎপাদন সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

৬. মসলা ফসল (Spices crops): মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে পেঁয়াজ ও মরিচ অন্যতম হলেও বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় বেশ উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে। যেমন পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০১৩ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ১৪ হাজার মে. টন। তেমনি মরিচের উৎপাদন হয়েছে ২.৪৩ থেকে ২.৬৭ লাখ মে. টন এবং চাহিদা পূরণে কাঁচামরিচ প্রায় ৭৭৬ ও শুকনো ৪০৭৮৪ মে. টন আমদানি করতে হয়েছে ২০১৪ সালে।

বারির মসলা গবেষণা কেন্দ্র হতে এ যাবৎ পেঁয়াজের ৫টি ও মরিচের ২টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মসলা জাতীয় ফসল হচ্ছে- মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, ধনিয়া, গোলমরিচ, জিরা, এলাচ, তেজপাতা ইত্যাদি।

৭. ঔষধি ফসল (Medicinal crops): যেসব ফসল ঔষধি কাজের জন্য উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে ঔষধি ফসল বলে। যেমন- তুলসী, বাসক, নিশিন্দা, কালোমেঘ, ঘৃতকাঞ্চন, দারুচিনি, গাজর, গন্ধশটি, জটামাংসী ইত্যাদি।

৮. পানীয় ফসল (Bevarage crops): পানীয় দ্রব্য উৎপাদনের জন্য যেসব ফসল উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে পানীয় ফসল বলে। যেমন- চা, কফি, লেবু ইত্যাদি।

৯. নেশা ফসল (Narcotic crops): নেশা দ্রব্য উৎপাদনের জন্য যেসব ফসল উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে নেশা ফসল বলে। যেমন- তামাক, পপি, গাঁজা ইত্যাদি।

১০. পশুখাদ্য ফসল (Fodder crops): গৃহপালিত পশুর জন্য যেসব ফসল উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে পশুখাদ্য ফসল বলে। যেমন খেসারি, গো-মটর, সবুজ ভুট্টা গাছ, ইত্যাদি।

১১. সবুজ সার ফসল (Green manure crops): জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য জমিতে সবুজ সার হিসেবে যেসব ফসলের উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে সবুজ সার ফসল বলে। যেমন- ধৈঞ্চা, ফেলন, শণপাট, মাষকালাই ইত্যাদি।

১২. শিল্প বা বাণিজ্যিক ফসল (Industrial crops): কারখানা চালানোর জন্য কারখানার কাঁচামাল যোগান দিতে যেসব ফসল উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে শিল্প বা বাণিজ্যিক ফসল বলে। যেমন- পাট, আখ, তুলা, রাবার ইত্যাদি।

উদ্যান ফসল (Horticultural Crops)

সাধারণত বাগানে, সীমিত জমিতে, বন্যামুক্ত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে যেসব ফসলের প্রতিটি গাছকে বিশেষ যত্নসহকারে চাষ করা হয়, সেগুলোকে উদ্যান ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস, টমেটো, পেঁপে, কলা, আম, কাঁঠাল, গোলাপ, রজনীগন্ধা, ক্যান্ডুলা, গাঁদা ইত্যাদি।

আমাদের দেশে কৃষির আওতায় দেশিয় প্রায় ১২৪ ধরনের ফসল চাষ করা হয়। তার প্রায় ৭০ ভাগই উদ্যান ফসলের অন্তর্গত। উদ্যান ফসল বিস্তৃত মাঠে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বা অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও সখের বসে চাষ করা হয়। ঘরের বারান্দায়, ছাদে বা টবে বিভিন্ন প্রকার ফুল বা সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালা উদ্যান ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।

উদ্যান ফসলে লাভ বেশি, কম জমিতে বেশি উৎপাদন, স্বল্প সময়ে ও কম ঝুঁকিতে উৎপাদন করা যায়। এতে নিবিড় কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় ও রপ্তানির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আয়তনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৮৩তম হলেও সবজি উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ অবস্থানে (২০১৫ সালে)। যাদের মাঠ ফসল চাষ করার সুযোগ নেই, তারা উদ্যান ফসল চাষ করতে পারে।

কৃষি যেমন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন, তেমনি উদ্যান ফসল ছাড়াও পৃথিবীতে সুস্থচিত্তে বাস করা কঠিন। উদ্যান ফসলের গাছ হতে ফল সংগ্রহ করে সরাসরি খাওয়া যায় এবং বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ অবিকৃত অবস্থায় শরীরে গ্রহণ করতে পারে। ২০১৪ - ২০১৫ সালে ০.৭৯৮ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদন হয়েছে ১৪.২৩ মিলিয়ন মে. টন। ২০১৫-২০১৬ সালে উদ্যান ফসলের অধীন চাষকৃত জমি (লাখ হে.) ও উৎপাদন (লাখ মে. টন):

উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য:

  • সাধারণত প্রতিটি গাছের পৃথক পৃথকভাবে পরিচর্যা করা হয় এবং নিবিড় যত্নের প্রয়োজন হয়।
  • একসাথে সাধারণত কম জমিতে চাষ করা হয়। বিশেষত আলু, পেঁয়াজ ছাড়া, মিষ্টি আলু ছাড়া।
  • উদ্যান ফসলের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বেড়া/ঘেরা দিতে হয়। বিশেষত ফল বাগান ছাড়া।
  • রোপণকালে আলাদা আলাদা গর্ত করতে হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিটি গাছে খুঁটি দিতে হয়।
  • 'সব ফসল একসাথে পরিপক্ব হয় না, তাই ধাপে ধাপে সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষত আলু, পেঁয়াজ, কালিজিরা, মেথি ছাড়া।
  • একটি গাছ হতে ফুল বা ফল দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যায়। তবে আগাম ফসলের দাম বেশি।
  • উদ্যান ফসল তাজা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়। তবে বেশিরভাগ রসালো হয়।
  • সাধারণত নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করতে হয়।
  • উৎপাদন ব্যয় সাধারণত বেশি হয়।

উদ্যান ফসলের শ্রেণিবিভাগ। উদ্যান ফসলগুলো সাধারণত তিনভাগে বিভক্ত। যথা- ১. ফুলজাতীয়, ২. ফলজাতীয় এবং ৩. সবজিজাতীয়।

১. ফুলজাতীয়: সাধারণত মৌসুমি বা সারা বছর ফুল উৎপাদনক্ষম গাছ-পালাকে ফুলজাতীয় গাছ বলা হয়। যেমন- গাঁদা, গোলাপ, জুঁই, বেলি, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি।

২. ফলজাতীয়: ফল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যে বাগান সৃজন করা হয়, তাকে ফলজাতীয় গাছ বলা হয়। অধিকাংশ ফলগাছ দীর্ঘজীবী। যেমন- আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, সফেদা ইত্যাদি।

৩. সবজিজাতীয়: শাকসবজির জন্য উৎপাদিত গাছপালাকে সবজিজাতীয় গাছ বলে। সবজি বলতে আমরা সাধারণত বান্না করে খাওয়া হয়, এমন ফসলকে সবজি বলে থাকি। ব্যবহার এবং গাছের বিভিন্ন অংশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ভিত্তিতে সবজি নানা ধরনের হয়ে থাকে। তবে গুরুত্ব অনুযায়ী মসলা ফসলকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। যেমন-

ক. ফুলজাতীয় ফুলকপি, ব্রকলি, কলার মোচা, বকফুল, শাপলা ফুল ইত্যাদি।
খ. পাতাজাতীয়- পুঁইশাক, লালশাক, ধনেপাতা, কচুশাক, বাঁধাকপি, পালংশাক, সজিনা পাতা, থানকুনি, ক্যাংকং, ওখনি ইত্যাদি।
গ. মূলজাতীয়- গাজর, মুলা, বিট, শালগম ইত্যাদি।
ঘ. ফলজাতীয়- কাঁচা পেঁপে, টমেটো, বেগুন, কুমড়া, ঝিঙা, করলা, বরবটি, কাঁকরোল, পটল, ঢেঁড়শ, শসা, লাউ।
ঙ. কন্দজাতীয়- গোল আলু, মেটে আলু, মুখীকচু, ওলকচু, মানকচু।
চ. কাণ্ডজাতীয় ডাঁটা, কলা গাছের শাঁস, কচি বাঁশ।
ছ. বীজজাতীয়- কাঁঠালের বীজ, শিম বীজ, মটরশুঁটি।
জ. মসলাজাতীয়- ধনিয়া, হলুদ, আদা, মরিচ, রসুন, গোলমরিচ, পুদিনা।

মসলা উৎপাদনের বাগানকে মসলোদ্যান বা মসলা বাগান বলা হয়। উদ্যান ফসলের গুরুত্ব। উদ্যান ফসল পারিবারিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টি সরবরাহ, পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত স্থানসমূহের অর্থবহ ব্যবহার, স্বল্পস্থানে বেশি উৎপাদন, ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অমৌসুমে সরবরাহ করাসহ আয় বৃদ্ধিকরণ, ব্যবসা ও গবেষণা করা, কাঠ ও জ্বালানি কাঠের চাহিদা পূরণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, আত্মকর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণসহ

আরও নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফল-শাকসবজি সরাসরি কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায় এবং শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও পানির সহজ উৎস হিসেবে কাজ করে। উদ্যান ফসল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও সৌন্দর্য পিপাসুদের মানসিক প্রশান্তি পূরণ করে জমির সুষ্ঠু ও নিবিড় ব্যবহারের জন্য উদ্যানফসল সব সময়ই যুগসই, লাগসই ও টেকসই। উল্লেখ্য যে, মাঠ ফসল অপেক্ষা এটি লাভজনক। তবে শ্রমসাধ্য ও তুলনামূলক ব্যয়সাপেক্ষ।

উদ্যান ফসলের শ্রেণিবিভাগ: উদ্যান ফসলগুলো সাধারণত তিনভাগে বিভক্ত। যথা- ১. ফুলজাতীয়, ২. ফলজাতীয় এবং ৩. সবজিজাতীয়।

১. ফুলজাতীয়: সাধারণত মৌসুমি বা সারা বছর ফুল উৎপাদনক্ষম গাছ-পালাকে ফুলজাতীয় গাছ বলা হয়। যেমন- গাঁদা, গোলাপ, জুঁই, বেলি, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি।

২. ফলজাতীয়: ফল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যে বাগান সৃজন করা হয়, তাকে ফলজাতীয় গাছ বলা হয়। অধিকাংশ ফলগাছ দীর্ঘজীবী। যেমন- আম, কাঁঠা  ল, লিচু, জাম, সফেদা ইত্যাদি।

৩. সবজিজাতীয়: শাকসবজির জন্য উৎপাদিত গাছপালাকে সবজিজাতীয় গাছ বলে। সবজি বলতে আমরা সাধারণত রত্না করে খাওয়া হয়, এমন ফসলকে সবজি বলে থাকি। ব্যবহার এবং গাছের বিভিন্ন অংশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ভিত্তিতে সবজি নানা ধরনের হয়ে থাকে। তবে গুরুত্ব অনুযায়ী মসলা ফসলকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। যেমন-

ক. ফুলজাতীয়- ফুলকপি, ব্রকলি, কলার মোচা, বকফুল, শাপলা ফুল ইত্যাদি।
খ. পাতাজাতীয়- পুঁইশাক, লালশাক, ধনেপাতা, কচুশাক, বাঁধাকপি, পালংশাক, সজিনা পাতা, থানকুনি, ক্যাংকং, শুষনি ইত্যাদি।
গ . মূলজাতীয়- গাজর, মুলা, বিট, শালগম ইত্যাদি।
ঘ. ফলজাতীয়- কাঁচা পেঁপে, টমেটো, বেগুন, কুমড়া, ঝিঙা, করলা, বরবটি, কাঁকরোল, পটল, ঢেঁড়শ, শসা, লাউ।
ঙ. কন্দজাতীয়- গোল আলু, মেটে আলু, মুখীকচু, ওলকচু, মানকচু।
চ. কাণ্ডজাতীয়- ডাঁটা, কলা গাছের শাঁস, কচি বাঁশ।
ছ. বীজজাতীয়- কাঁঠালের বীজ, শিম বীজ, মটরশুঁটি।
জ. মসলাজাতীয়- ধনিয়া, হলুদ, আদা, মরিচ, রসুন, গোলমরিচ, পুদিনা। মসলা উৎপাদনের বাগানকে মসলোদ্যান বা মসলা বাগান বলা হয়।

উদ্যান ফসলের গুরুত্ব: উদ্যান ফসল পারিবারিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টি সরবরাহ, পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত স্থানসমূহের অর্থবহ ব্যবহার, স্বল্পস্থানে বেশি উৎপাদন, ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অমৌসুমে সরবরাহ করাসহ আয় বৃদ্ধিকরণ, ব্যবসা ও গবেষণা করা, কাঠ ও জ্বালানি কাঠের চাহিদা পূরণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, আত্মকর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণসহ আরও নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফল-শাকসবজি সরাসরি কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায় এবং শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও পানির সহজ উৎস হিসেবে কাজ করে। উদ্যান ফসল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও সৌন্দর্য পিপাসুদের মানসিক প্রশান্তি পূরণ করে জমির সুষ্ঠু ও নিবিড় ব্যবহারের জন্য উদ্যানফসল সব সময়ই যুগসই, লাগসই ও টেকসই। উল্লেখ্য যে, মাঠ ফসল অপেক্ষা এটি লাভজনক। তবে শ্রমসাধ্য ও তুলনামূলক ব্যয়সাপেক্ষ।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষির ধারণা এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url