মূলধন কাকে বলে? মূলধনের কার্যাবলি লেখ

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে মূলধন কাকে বলে? মূলধনের কার্যাবলি লেখ নিয়ে আলোচনা করব।

মূলধন কাকে বলে? মূলধনের কার্যাবলি লেখ

মূলধন কাকে বলে? মূলধনের কার্যাবলি লেখ। অথবা, মূলধনের সংজ্ঞা দাও। মূলধনের গুরুত্ব ও কার্যাবলি বর্ণনা কর। উৎপাদনের তৃতীয় উপাদান হলো মূলধন। সাধারণ অর্থে মূলধন বলতে কেবল ব্যবসায়ে নিয়োজিত টাকাপয়সাকে বুঝায়।

কিন্তু অর্থনীতিতে মূলধন শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। মানুষের শ্রম দ্বারা উৎপন্ন দ্রব্যের যে অংশ অধিকতর উৎপাদনের জন্য পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়, তাকে মূলধন বলা হয়। কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, কলকারখানা ইত্যাদি মূলধনের অন্তর্ভুক্ত। মূলধন হলো উৎপাদনের একটি উৎপাদিত উপাদান।

মূলধনের কার্যাবলি: আধুনিক বিশ্বে মূলধন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নিম্নে মূলধনের গুরুত্ব ও কার্যাবলি বর্ণনা করা হলোঃ

  1. মূলধন উৎপাদন বৃদ্ধি করে: মূলধন উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান সহায়ক। মূলধন ব্যবহারের ফলে প্রত্যেকটি উৎপাদনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই মূলধন ব্যবহারের ফলে দ্রব্যের পরিমাণ শুধু বৃদ্ধি পায় না, সেই সঙ্গে উৎকৃষ্টমানের দ্রব্যও উৎপাদিত হয়। ফলে সার্বিকভাবে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।
  2. শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি করে: মূলধন শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। উন্নত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ দ্রব্য উৎপাদন করতে পারে। মূলধন শ্রমিকদের দৈহিক শ্রম লাঘব করে।
  3. মূলধন যন্ত্রপাতি যোগান দেয়: মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে কারখানায় উন্নতমানের যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে মূলধনের যথেষ্ট গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আছে।
  4. মূলধন কাঁচামাল যোগান দেয়: কোনো শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদনে কাঁচামাল অপরিহার্য। এই কাঁচামাল যোগান দিতে মূলধনের খুব প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অতএব, কাঁচামাল সংগ্রহ করা মূলধনের অন্যতম কাজ।
  5. মূলধন বৃহদায়তন উৎপাদনের সহায়তা করে: মূলধন ব্যতীত বৃহদায়তন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। মূলধনের ব্যবহারের ফলেই বৃহদায়তন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
  6. মূলধন উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে সমন্বয় ঘটায়: মূলধনের ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ও শ্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটে। মূলধন একটি দ্রব্যের উৎপাদনের কাজ আরম্ভ এবং তা সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখে।
  7. মূলধন সময় সংক্ষেপ করে: মূলধন ব্যবহারের ফলে সময় সংক্ষেপ করা সম্ভবপর হয়েছে।
  8. মূলধন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে: মূলধনের সাহায্যে দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব হয়েছে।
মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। কাজেই উপরিউক্ত আলোচনার থেকে বলা যায় যে, সকল উপাদান উৎপাদনশীল হলেও মূলধনের উৎপাদনশীলতা সর্বাধিক। বস্তুত আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে মূলধন নির্ভর। তাই মূলধনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। মূলধন কাকে বলে? মূলধনের কার্যাবলি লেখ এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url