বিভিন্ন পেশায় মজুরির হারের পার্থক্য হয় কেন?

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে বিভিন্ন পেশায় মজুরির হারের পার্থক্য হয় কেন? নিয়ে আলোচনা করব।

বিভিন্ন পেশায় মজুরির হারের পার্থক্য হয় কেন?

বিভিন্ন পেশায় মজুরির হারের পার্থক্য হয় কেন? অথবা, বিভিন্ন পেশায় মজুরি হারের পার্থক্যের কারণ লেখ। শ্রমিকের মজুরির হার সর্বত্র সমান হয় না। একই দেশে ভিন্ন ভিন্ন পেশা বা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরির হারের তারতম্য থাকতে পারে। এরূপ তারতম্যের জন্য নিম্নলিখিত কারণগুলো প্রধানত দায়ী-

  1. কাজের প্রকৃতি: সহজ ও প্রীতিকর কাজের জন্য শ্রমের চাহিদা অপেক্ষা যোগান বেশি হয়, ফলে এসব পেশায় মজুরি কম। কিন্তু যেসব কাজ অপেক্ষাকৃত কষ্টকর। সেসব কাজের মজুরির হার বেশি হয়।
  2. কাজের স্থায়িত্বঃ স্থায়ী কাজের জন্য শ্রমের যোগান বেশি হওয়ায় মজুরি কম হয়। পক্ষান্তরে, অস্থায়ী কাজে চাহিদার তুলনায় শ্রমের যোগান কম থাকায় বেশি মজুরি দিতে হয়।
  3. কাজের ঝুঁকি: ঝুঁকিবহুল ও বিপজ্জনক পেশায় শ্রমিক বেশি মজুরি ছাড়া কাজ করে না। কিন্তু কম ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অল্প মজুরিতেই শ্রমিক কাজ করতে ইচ্ছুক থাকে।
  4. পেশাগত ও প্রশিক্ষণ খরচঃ যেসব বৃত্তি বা কাজে শিক্ষার খরচ বেশি সেখানে বেশি মজুরি না দিলে শ্রমিক আকৃষ্ট হয় না। কিন্তু পেশা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যয় কম হলে সেখানে কম মজুরিতেও শ্রমিক পাওয়া যায়। যেমন- সাধারণ দিনমজুর অপেক্ষা একজন কাঠমিস্ত্রির মজুরি বেশি।
  5. উন্নতির সম্ভাবনাঃ যেসব চাকরিতে ভবিষ্যতে উন্নতির সম্ভাবনা আছে সেখানে সাধারণত প্রারম্ভিক মজুরি কম হয়। কিন্তু একজন মোটর চালকের ভবিষ্যৎ উন্নতির সম্ভাবনা কম হওয়ায় তার মজুরি বেশি হয়ে থাকে।
  6. আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা: যেসব পেশায় শ্রমিক বাসস্থান, চিকিৎসা, যাতায়াত, পোশাক প্রভৃতির সুবিধা পেয়ে থাকে সেখানে অর্থ মজুরি কম হয়। কিন্তু এসব সুযোগ-সুবিধা না থাকলে শ্রমিককে বেশি অর্থ মজুরি দিতে হয়।
  7. শ্রমিকের গতিহীনতা: পেশাগত শিক্ষার অভাব, পরিবহন, ব্যয়, সামাজিক বন্ধন প্রভৃতি কারণে শ্রমিক এক পেশা থেকে অন্য পেশা বা স্থানে সহজে যেতে পারে না। ফলে বিভিন্ন পেশার মধ্যে শ্রমিকের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য না থাকায় মজুরির হারের তারতম্য দেখা দেয়।
  8. চাহিদার মাত্রাঃ বিশেষ বিশেষ পেশায় শ্রমের চাহিদা তার যোগান অপেক্ষা বেশি হয়। সেসব ক্ষেত্রে মজুরির হার তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে।
  9. অপ্রতিযোগী শ্রমিক শ্রেণিঃ জন্মসূত্র, শিক্ষা, আয় প্রভৃতি কারণে সমাজে অপ্রতিযোগী শ্রমিক শ্রেণি বিদ্যমান। যেমন- তাঁতি, ধোপা, নাপিত, জেলে ইত্যাদি। পেশা পরিবর্তন না করায় এরা পরস্পরের প্রতিযোগী হয় না। এসব পেশায় সাধারণভাবে মজুরির পার্থক্য থাকে।
  10. শ্রমিক সংঘের প্রভাবঃ শ্রমিক সংঘ মজুরির হারকে প্রভাবিত করে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক সংঘের চাপ থাকে এবং নিম্নতম মজুরি আইন কার্যকর হয়, সেক্ষেত্রে মজুরির হার অন্য পেশা অপেক্ষা বেশি হয়।
  11. সামাজিক মর্যাদা: পেশা বা বৃত্তি বেশি মর্যাদাসম্পন্ন হলে সেখানে কম মজুরিতেও যোগ্য লোক পাওয়া যায়। কিন্তু সামাজিক মর্যাদা কম হলে সেখানে শ্রমিককে আকৃষ্ট করার জন্য বেশি মজুরি দিতে হয়।
সুতরাং কাজের প্রকৃতি, স্থায়িত্ব, ঝুঁকি, পেশাগত ও প্রশিক্ষণ খরচ, শ্রমিকের গতিশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার কারণে মজুরি হারের পার্থক্য হয়ে থাকে।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। বিভিন্ন পেশায় মজুরির হারের পার্থক্য হয় কেন? এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url